রেলের সব যুক্তি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট, মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

By Suman Debnath

September 18, 2026 3:45 PM

রেলের সব যুক্তি খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট, মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ


ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল স্ত্রীর। এই ঘটনায় রেলের গাফিলতি আছে এবং তার জেরে মৃতার স্ত্রীর স্বামী রেলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন। কিন্তু রেল তা দিতে অস্বীকার করেছিল। উলটে নানারকম যুক্তি খাঁড়া করে সেই ক্ষতিপূরণের দাবি খারিজ করে দেয় রেল। তার জেরে মামলা করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টে রেলের নানান যুক্তি খারিজ করে দেওয়া হয়। শুক্রবার সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়,  কোনও অজুহাত না দিয়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে রেলকে। বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর বেঞ্চের এই নির্দেশে জোর ধাক্কা খেল রেল।

রেল দুর্ঘটনার জেরে ক্ষতিপূরণ দেওয়াটা নিয়ম। কিন্তু সেই নিয়মই মানতে চায়নি রেল। নানা ফন্দি-ফিকির করে সেই ক্ষতিপূরণ আটকে রেখেছিল রেল বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সুকুমার মণ্ডল আবেদন করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। তিনি আদালতকে জানান, উলুবেড়িয়া এবং ফুলেশ্বরের মাঝে ট্রেন যখন থেমেছিল তখন নামতে গিয়ে ট্রেন থেকে পড়ে যান তাঁর স্ত্রী। ওই জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু এসব কথা বললেও রেল কিছুতেই ক্ষতিপূরণ দিতে চাইছিল না।

আরও পড়ুন:  মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় রুখতে তৎপর লালবাজার, পুজোর আগেই কড়া নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সিগন্যাল লাল থাকায় ট্রেনটি উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝে থামে। ওই মহিলার স্বামী এবং দুই সন্তান ট্রেন থেকে নেমেও যান। আর মহিলা যখন নামার চেষ্টা করছিলেন, তখন ট্রেনটি ছেড়ে দেয়। আর তার জেরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন ওই বধূ। তাঁকে তখন তড়িঘড়ি প্রথমে উলুবেড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয়। ২০১২ সালের ৫ মার্চ হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে ওই গৃহবধূ মারা যান।

তাছাড়া রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল স্বামীর দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে আগেই ক্ষতিপূরণের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। রেলের যুক্তি ছিল, এই ঘটনাটি কোনও রেল দুর্ঘটনা নয়। মৃত মহিলার ভুলেই এমন ঘটনাটি ঘটেছিল। আর আবেদনকারী প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে মৃত মহিলা একজন বৈধ যাত্রী ছিলেন। পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রেল দাবি করেছিল, ট্রেন চলতে শুরু করার পর ওই যাত্রী নামার চেষ্টা করেছিলেন। তার জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল রেলের তরফে, আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন এবং ট্রেনের টিকিটও দেখাতে পারেননি। কিন্তু এসব যুক্তি ধোপে টেকেনি আদালতে। কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিয়েছে, ট্রেনে ওঠা বা নামার সময় কোনও যাত্রীর অসাবধানতাকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার যুক্তি হিসেবে দেখাতে পারে না রেল। ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৪এ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনকী ৯ শতাংশ সুদ-সহ ৪ লক্ষ টাকা অথবা ৮ লক্ষ টাকা, যেটা বেশি হবে সেটা দিতে হবে মৃতার স্বামীকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে।

আরও পড়ুন:  ‘কমিউনিস্ট ও ককরোচদের থেকে সাবধান’, পুজো দিতে গিয়ে বামেদের নিশানা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment