শেষ শুনানির দিন হাজির হতে না পারায় জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার হয়ে হেফাজতে যেতে হয়েছিল ১৪ অভিযুক্তকে। কিন্তু পরের তারিখেই আদালতের দরজায় এসে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ, এই আচরণকেই গুরুত্ব দিল কলকাতার এনআইএ বিশেষ আদালত। অভিযুক্তদের পরিস্থিতি ও আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে ১৪ জনকেই জামিন দিলেন বিচারক।
এনআইএ স্পেশাল (এক্সক্লুসিভ) কোর্ট নং ২-এর বিচারক শ্রী অজয়েন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশে জানান, গত ২৫ আগস্ট ওই ১৪ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছিল। এদিন তাঁরা প্রত্যেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের হেফাজতে নিয়ে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পরই পেশ হয় জামিনের আবেদন।
জামিনের পর দুই পক্ষের সম্মতিতে মামলাটি চার্জ গঠনের পর্যায়ে ওঠে। এনআইএর বিশেষ সরকারি আইনজীবী আদালতে মামলার তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের মতো পর্যাপ্ত উপাদান রয়েছে বলে দাবি করেন।
আদালতে অভিযুক্তদের আইনজীবী জানান, ‘যোগাযোগের সমস্যার’ কারণে আগের তারিখে অভিযুক্তরা আদালতে হাজির হতে পারেননি। তাঁদের প্রত্যেকের স্থায়ী বাসস্থান রয়েছে। তাঁরা আগে থেকেই জামিনে ছিলেন এবং মামলায় তাঁদের আচরণও সন্তোষজনক ছিল। এই যুক্তিতে আদালতের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে, জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে এনআইএ-র বিশেষ সরকারি আইনজীবী অরুণ কুমার মাইতি দাবি করেন, অভিযুক্তরা এর আগেও জামিনের সুযোগের অপব্যবহার করেছেন। ফলে তাঁদের প্রতি আর কোনও ছাড় দেওয়া উচিত নয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত বিশেষভাবে বিবেচনা করে দেখেন ওয়ারেন্ট জারির পরবর্তী তারিখেই অভিযুক্তরা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সেই আচরণকে গুরুত্ব দিয়েই আদালত জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বাদল মাহাতা, লাখিরাম হেমব্রম, বাজিনাথ টুডু, সুন্দর মান্ডি, চন্দ্রশেখর মাহাতা, জয়রাম বেরা ওরফে জয় বেরা ওরফে জয়দেব বেরা, রাজু আদক, ভূদেব মাহাতা, দিলীপ কুমার মাহাতা, শশধর দোলুই, অশোক মাহাতা, চিত্তরঞ্জন সামন্ত, অরুণ মাহাতা এবং বিদ্যুৎ সিংহ—এই ১৪ জনকে ৫ হাজার টাকার বন্ড এবং ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দু’জন রেজিস্টার্ড জামিনদারের শর্তে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারভিত্তিক পার্টি নয়, কারুর বাপের…’ কমিশনের বৈঠক শেষে চাঁচাছোলা মন্তব্য ঋতব্রতের
এরপরই ১৬ জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, ষড়যন্ত্র, হত্যা, অপহরণ, দাঙ্গা এবং ইউএপিএ (UAPA)-র সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ধারা। চার্জ পড়ে শোনানোর পর ১৬ জনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা নির্দোষ এবং বিচার চাই। আদালত আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য করেছে। ওই দিন প্রথম পর্বের গ্রহণের কথা রয়েছে।
Leave a Comment