---Advertisement---

‘৩০ কোটির’ লেনদেন, সুমিতের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সুপ্রিম কোর্ট! উঠে এল ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ প্রসঙ্গ

By kolamkotha.com

August 31, 2026 6:05 PM

---Advertisement---


শালবনি জমি-কাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুরু হল তীব্র সওয়াল-জবাব। তদন্তে বিপুল অঙ্কের নগদ জমা, একাধিক ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য শুনল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

আপাতত সুমিতের গ্রেপ্তারির উপর আগের নির্দেশ বহাল রাখল আদালত। আগামী সোমবার ফের মামলাটির শুনানি হবে। সুমিতের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি জানান, আগের শুনানিতে ‘নীরব থাকার অধিকার’-এর কথা বললেও পরে তিনি জানতে পেরেছেন, সুমিত তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। প্রায় ১১ দিন ধরে তাঁর বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া ভিডিয়োগ্রাফ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে তদন্তকারীদের প্রশ্নের ধরন নিয়েই আপত্তি তোলেন সুমিতের আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট অপরাধের বদলে তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক দলের নিয়োগ পদ্ধতি এবং দলের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। এমনকী কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখিয়ে তাঁদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপরেই মামলায় উঠে আসে বিপুল অঙ্কের লেনদেনের প্রসঙ্গ। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ টাকা করে একাধিক ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে, সেগুলি কীভাবে হল? বিচারপতি জে বি পাগচি-ও তদন্তে ‘সুবিধাভোগী জমি’ বা ভেস্টেড ল্যান্ডকে সংগঠিতভাবে রূপান্তরের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সুমিতকে লেনদেনের নথি দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে আরও টাকা জমা পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। ব্যাঙ্কে জমা পড়া অর্থের একটি অংশ নির্দিষ্ট কোনও উৎস থেকে এলেও বাকিটা নগদ হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। তদন্তের বর্তমান তথ্যকে ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলেও মন্তব্য করেন সলিসিটর জেনারেল।

তখন প্রধান বিচারপতি সরাসরি জানতে চান, তদন্তকারী অফিসার কি সুমিতকে জিজ্ঞাসা করেছেন? এই টাকা কার কাছ থেকে এসেছে কে অনুমোদন করেছেন? কত টাকা পাওয়া হয়েছে? সেই প্রশ্নগুলির জবাব কী? তা আদালত দেখতে চায়।

শুনানিতে আরও উঠে আসে প্রায় ৩০ কোটি টাকা একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থায় স্থানান্তরের প্রসঙ্গ। সেই সংস্থার বিরুদ্ধে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের কথাও উল্লেখ করেন সলিসিটর জেনারেল। এই প্রসঙ্গেই বিচারপতি জে বি বাগচি তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সময়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিরা ওই মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধীরগতির তদন্ত নিয়ে যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর মন্তব্য, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে কম বলাই ভাল।’

আরও পড়ুন: বেআইনি নির্মাণে জনস্বার্থে আদালতে যেতে পারবেন তৃতীয় পক্ষ! কড়া বার্তা হাইকোর্টের

অন্যদিকে, সুমিতের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের স্বাক্ষর করা কোনও নথি তদন্তকারীদের হাতে নেই। তদন্তের ভিডিয়ো দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

---Advertisement---

No comments to show.

Leave a Comment