সীমান্তে শান্তির বার্তা, চিনের উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডোভালের বৈঠক

By kolamkotha.com

August 25, 2026 9:15 PM


সীমান্ত বিবাদ মেটানোর লক্ষ্যে চিন সফরে গিয়ে মঙ্গলবার বেজিংয়ে চিনের উপরাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কৌশলগত আস্থা বাড়ানো এবং ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠকে বসেন ডোভাল।

ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়। ভারতের তরফে এই আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন ডোভাল, চিনের তরফে ওয়াং ই। এবারের বৈঠকে সীমান্ত সমস্যার সামগ্রিক সমাধানের পাশাপাশি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন:  অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের বিনামূল্য প্রাতঃরাশ, তামিলনাড়ুর এই প্রকল্পে উপকৃত হবে আরও ১৫.৩ লক্ষ পড়ুয়া

বৈঠকের আগে হান ঝেং বলেন, দুই দেশের উচিত দীর্ঘমেয়াদে ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দেখা। পারস্পরিক আস্থা বাড়িয়ে তোলা, মতপার্থক্য হ্রাস করা এবং সহযোগিতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সম্পর্কের স্থায়ী উন্নতির দিকে এগোনোর বার্তাও দেন তিনি।

ডোভালও জানান, বিশ্বের দুই বৃহৎ ও দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে ভারত ও চিনের সামনে সহযোগিতার ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ রয়েছে। সীমান্ত সমস্যার উপযুক্ত সমাধানের পাশাপাশি পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা আরও বাড়াতে চিনের সঙ্গে কাজ করতে ভারত প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, দুই দেশের নেতাদের মধ্যে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নত করার উপায় নিয়ে হান ও ডোভালের আলোচনা হয়েছে।

ডোভালের এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ আরও একটি কারণে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দিতে পারেন বলে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর ভারত-চিন সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে। সেই আবহে ডোভালের বেজিং সফরকে পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে সম্পর্ক উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা, এসআইআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের আর্জি

তবে এই আলোচনার সময়েই অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চিনের বিরুদ্ধে অরুণাচলের কিছু এলাকায় আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, চলতি মাসে এলএসি-সংলগ্ন চিন অধিকৃত তিব্বতের ২৭টি এলাকার নাম বদলে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে ভারত। ফলে সীমান্ত নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই শান্তি ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা দিলেন দুই দেশের শীর্ষ আধিকারিকরা।

No comments to show.

Leave a Comment