‘সবাই মরে যেতাম’, হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা

By Suman Debnath

August 9, 2026 4:15 PM

‘সবাই মরে যেতাম’, হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে ক্ষোভ উগরে দিলেন মমতা


হালিশহরে রবিবার গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ হেপাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা তাঁর পরিবারের কাছে যান দলনেত্রী। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ওঠে। তাঁর কনভয় ঘিরে ধরে গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, পাথর ও জুতো ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্ত এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলনেত্রীর দাবি, বিজেপির নেতা, কর্মীরা এই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং তাঁর উপর আক্রমণ করা হয়েছে। পাল্টা বিজেপি অভিযোগ করেছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উস্কানি দিতেই এসেছেন কাঁচরাপাড়ায়। সাধারণ মানুষ সেটার প্রতিবাদ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দাগেন রাজ্য সরকারকে। পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি গুন্ডাদের দিয়ে এই কাজ করিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার তো মাথা ফেটে যেত। আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এভাবে হামলা আমরা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় থেকে বিজেপিকেই সুরক্ষা দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:  ১৬ মামলায় ধাক্কা, ৩-এ রক্ষাকবচ! অভিষেকের বাকি মামলায় আবেদন খারিজ হাইকোর্টের

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা নিজেদের ক্ষোভ চরমে তোলেন। এখানে বিক্ষোভের মুখে পড়ে তৃণমূলনেত্রী চিৎকার করে বলেন, ‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ। বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব। আমার গাড়িতে বড় বড় ইট ছোঁড়া হয়েছে।’ আর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘যে স্থানীয় আইসি মূল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত এদিন তিনিই নিজে উদ্যোগ নিয়ে বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন। তারা আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করে এবং বড় বড় ইট ছুঁড়ে মারে। আপনারা গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বুঝতে পারবেন—পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই আমাদের ধাওয়া করা হয়েছে।’

হালিশহর থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কদিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইন-সহ নানা জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ব্যারাকপুর আদালত বিরজুকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতে দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ঘটনা নিয়ে সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’ আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’

আরও পড়ুন:  মাদক পাচার রুখতে সমন্বিত অভিযান, NCORD বৈঠক কলকাতা পুলিশের

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment