নজরবন্দি ব্যুরো: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা DA) সংক্রান্ত বহুল আলোচিত মামলার শুনানি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এ হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত হয়ে গেল। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল (Justice Sanjay Karol) এবং বিচারপতি পি কে মিশ্র (Justice P. K. Mishra)-র বেঞ্চে মামলাটি ওঠার কথা ছিল। এখন পরবর্তী শুনানি হবে ১৮ অগস্ট ২০২৬, দুপুর ২টায়। এদিকে রাজ্য সরকারের ৮৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে বাকি ১৫ শতাংশে ছাড় চাওয়ার আবেদনকে ঘিরে মামলাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। তবে শীর্ষ আদালতে জমা দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানায়, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ১০০ শতাংশ বকেয়া একসঙ্গে মেটানো সম্ভব নয়। তাই মোট বকেয়ার ৮৫ শতাংশ পরিশোধ করে বাকি ১৫ শতাংশ মকুবের আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্যের দাখিল করা পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জমে থাকা বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১,৯৮৩ কোটি টাকা পরিশোধের হিসাব করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম কিস্তির ৭,৭৭১ কোটি টাকা ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও জুলাই এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে মোট তিন দফায় পরিশোধের প্রস্তাব আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য।
স্টেটাস রিপোর্টে সরকার জানিয়েছে, ২০০৮-২০১৫ এবং ২০১৬-২০১৯—এই দুই পৃথক সময়সীমার ভিত্তিতে বকেয়া হিসাব করা হচ্ছে। প্রায় ১৪১ মাসের বকেয়া পৃথকভাবে নির্ধারণ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৯০টি ট্রেজারির তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন দফতরের আলাদা বেতন কাঠামো অনুযায়ী হিসাব এবং পুরনো কাগজভিত্তিক নথিকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরের কাজও চলছে।
রাজ্যের বক্তব্য, ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর বেতনের তথ্য ডিজিটাল আকারে নেই। ফলে নতুন পোর্টাল তৈরি করে তথ্য আপলোড করতে হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিপুল আর্থিক ব্যয়ের কারণেই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন বলে আদালতকে জানিয়েছে সরকার।
রাজ্য আরও দাবি করেছে, ডিএ মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলার জন্য দেওয়া হলেও, আইনগতভাবে ১০০ শতাংশ বকেয়া পরিশোধ বাধ্যতামূলক নয়। পাশাপাশি পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) বাবদ রাজস্ব কমে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ব্যয়ের কারণে রাজ্যের আর্থিক চাপ বেড়েছে বলেও স্টেটাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকারি কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim) জানিয়েছেন, রাজ্য ছাড়ের আবেদন জানাতে পারে, তবে কর্মচারীদের দাবি একটাই—সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১০০ শতাংশ বকেয়া ডিএ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
এখন নজর ১৮ অগস্টের শুনানির দিকে। ওই দিন সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আর্থিক যুক্তি, ১৫ শতাংশ ছাড়ের আবেদন এবং কর্মচারীদের দাবি—সব দিক বিবেচনা করে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষাধিক সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী।
Leave a Comment