বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মানুষ অনলাইনের উপরে বেশি নির্ভরশীল। সে শপিং হোক কিংবা টাকা লেনদেন সর্বত্রই এখন অনলাইন ভরসা। দোকান-রেস্তোরাঁ সব জায়গাতেই মানুষ নগদ টাকার বদলে ইউপিআই (UPI) দিয়ে পেমেন্ট করে থাকে। প্রতিদিন মানুষ হাজার হাজার টাকা অনলাইনে ইউপিআই (UPI) দিয়ে পেমেন্ট করে থাকেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট করলে বাড়তি টাকা গুনতে হয় না। তবে এবার থেকে তা গুনতে হতে পারে।
ডিজিটাল পেমেন্ট নিয়ে বড় আইনি পরিবর্তন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্টে সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করেছেন। এই আইনি প্রস্তাব অনুমোদন হলে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক ইউপিআই (UPI) লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালু করতে পারবে।
জানা গিয়েছে, ২০০০ টাকার বেশি ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বসানো হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও শপিং মল বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করে তাদের জন্য মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এর কোপ সাধারণ মানুষের উপরে পড়বে না। সাধারণ ক্রেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে এই চার্জ কাটা যাবে না। বন্ধুকে টাকা পাঠানো বা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতো পেমেন্টে কোনও চার্জ অন্তর্ভুক্ত হবে না।
কিন্তু মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট কী? এটি হল ডিজিটাল পেমেন্ট প্রসেস করার বদলে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট অ্যাপগুলির প্রাপ্ত পরিষেবা ফি। ইউপিআই ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এতদিন এই চার্জ ছিল না। কিন্তু ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের এই ফি দিতে হত। তবে আপাতত সাধারণ ক্রেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে এই চার্জ কাটা যাবে না।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইতে হবে জুকারবার্গকে! প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বিতর্কে ৩ দিনের আলটিমেটাম সংসদীয় কমিটির
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ও ভারতে রেকর্ড ২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকার ইউপিআই লেনদেন হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকা। তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা জেফারিজের মতে, ২ হাজার টাকার উপরে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট লাগু হলে ফোন পে, গুগল পে, পেটিএমের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট বছরে প্রায় ৫-১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে।
Leave a Comment