মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে কী হয়?

By Suman Debnath

August 5, 2026 1:55 PM

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে কী হয়?


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য সুরক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পানি, সামুদ্রিক খাবার, ফল, শাকসবজি, লবণ, মধু, চা, চাল, মাংস এমনকি বাতাসেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, আর বিজ্ঞানীরা মানুষের রক্ত, ফুসফুস, প্ল্যাসেন্টা ও ধমনীতেও এসব কণা শনাক্ত করেছেন।


মাইক্রোপ্লাস্টিক মূলত ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট প্লাস্টিক কণা, যার বেশিরভাগই বোতল, খাবারের পাত্র, প্যাকেজিং ও সিন্থেটিক কাপড়ের মতো বড় প্লাস্টিক পণ্য ভেঙে তৈরি হয়। এর চেয়েও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিক এতটাই ছোট যে খালি চোখে দেখা যায় না এবং এগুলো মানবদেহের গভীরে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। দূষিত মাটি, নদী-সমুদ্র, প্লাস্টিক প্যাকেজিং, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ বা বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার মাধ্যমে এসব কণা খাদ্য শৃঙ্খলের প্রায় প্রতিটি পর্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ।

আরও পড়ুন:  আগামী ৫ দিন টানা বৃষ্টির আভাস


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সাধারণত পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্যের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়, তবে উদ্বেগের মূল বিষয় ক্ষুদ্রতম ন্যানোপ্লাস্টিক নিয়ে, যেগুলো জৈবিক বাধা অতিক্রম করে বিভিন্ন টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে বলে মনে করেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক কোষকে উত্তেজিত করে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত, পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়িয়ে কোষ, প্রোটিন ও ডিএনএ-র ক্ষতি এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এছাড়া প্লাস্টিকে থাকা বিভিন্ন সংযোজনী রাসায়নিক এবং শোষিত দূষক পদার্থ দেহে প্রবেশের পর নির্গত হতে পারে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।


আরও পড়ুন:  জাকার্তায় দলের সঙ্গে যোগ দিলেন হামজা চৌধুরি

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) জানিয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন প্রায় সর্বত্র পাওয়া যাওয়ায় তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে খাবার পুনরায় গরম করার আগে কাঁচ বা সিরামিকের পাত্রে ঢেলে নেওয়া, প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা এবং বোতলজাত পানির পরিবর্তে ফিল্টার করা কলের পানি পান করার মতো কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে এর সংস্পর্শ কমানো সম্ভব বলে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


আমার বাঙলা/ তালহা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment