বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে (Tulu Mondal) ঘিরে তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল জেলা পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে টুলুর (Tulu Mondal) ব্যবসার ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়। সোমবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।
এদিন তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। জেরা করে সীতেশের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনিক আধিকারিকের নাম রয়েছে। এছাড়াও নকল ডিসিআর ছাপানোর যন্ত্র পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, ওই নকল রসিদ নিয়েই পাথরের চোরাচালান ঘটত।
সম্প্রতি টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) -কাণ্ডে তদন্তের মোড় ঘুরে যায় তাঁর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে। বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামের ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের পরই মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখায় মুরলীধর-সহ ৩ আইপিএসকে বদলি
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই সীতেশ প্রামাণিকের খোঁজ শুরু হয়েছিল। এর আগে গত শনিবার শিলিগুড়ি থেকে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) আর এক আত্মীয় শেখ ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি নেপালে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। ওয়াসিম টুলুর (Tulu Mondal) ভাগ্নে। সেই ঘটনার পর সীতেশ প্রামাণিকের গ্রেপ্তারি এই মামলায় তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।
সীতেশ প্রামাণিক মুর্শিদাবাদের সালারের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ১২ বছর ধরে টুলুর (Tulu Mondal) পাচামির ক্রাশারে সাপ্লাই অফিসে কাজ করেন তিনি। কেন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো তিনি জানেন না, বলে জানিয়েছেন।এদিকে, কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের পরও টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) খোঁজ এখনও মেলেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত ৪ মে থেকেই তিনি নিখোঁজ।
তদন্তকারীদের দাবি, টুলু (Tulu Mondal) বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশি জেরায় মিনার মণ্ডল দাবি করেছেন, টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) তাঁর সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি। এরই মাঝে গ্রেপ্তার হলেন টুলুর অন্যতম এক ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক।
আরও পড়ুন: হানিট্র্যাপের মহিলা গ্যাং তৈরিতে টার্গেটে উঠতি মডেলরা
অন্যদিকে, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সঙ্গে যোগসাজশের জেরে মহম্মদবাজার থানার দুই সাব ইন্সপেক্টরকে ক্লোজ করা হয়েছে ৷ এসআই সানাউর হোসেন ও আব্দুল আলিমকে বীরভূম পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের মহম্মদ নিজামুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপে সহযোগী হিসাবে দিনের পর দিন কাজ করেছেন এই দুই অফিসার। তাই তাদের ক্লোজ করা হয়েছে।
তদন্তে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, উদ্ধার হওয়া বিপুল টাকা ও সোনার উৎস কী। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, পাথর ব্যবসায় কোনও আর্থিক অনিয়ম, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, বেআইনি অর্থ লেনদেন, ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় বা জোর করে জমি দখলের মতো অভিযোগের সঙ্গে এই সম্পদের কোনও যোগ রয়েছে কি না। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পাশাপাশি টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ১৮৬ কোটিরও বেশি টাকার হদিশ পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, সীতেশ প্রামাণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) অবস্থান ও বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
Leave a Comment