পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার পাক জঙ্গি সদস্য হামিম মণ্ডলের কাজে খুশি ছিল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর মাথারা। তাঁদের নির্দেশমতো হামিম সব কাজ করত বলে জানতে পেরেছে এসটিএফ (STF)। এমনকী শীঘ্রই ধৃত জইশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলের দুবাই যাবারও পরিকল্পনা ছিল। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রেঁনেসা উপনগরীর একটি জিম থেকে হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এবার এই ঘটনার তদন্তে নেমে হামিমের বিরুদ্ধে এসটিএফের হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিনের মধ্যেই হামিমের দুবাই যাবার পরিকল্পনা ছিল। ওখানেই জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর আক্রমণের আগে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখার কাজ করছিল হামিম। সেই সব তথ্য হামিম জঙ্গিদেরকে পাঠাত। তবে দুবাই যাওয়ার পাসপোর্ট তৈরি ছিল না। দুবাইয়ের বৈঠকের পর বড় কোনও কাজের দায়িত্ব হামিমকে দেওয়া হত বলে এসটিএফ জানতে পেরেছে।
হামিমের গ্রেপ্তারির পরেই জানা গিয়েছিল সে হাওড়ার পিলখানায় থাকত। কিন্তু কোন এলাকায় সে থাকত তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে রবিবার সকালে জানা যায় পিলখানার আলম মিস্ত্রি লেনের এঁদো গলির একটি বহুতলের একতলার একটি ফ্ল্যাটে হামিম থাকত। সেখানে তিনি ও তার বাবা থাকতেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। স্থানীয়রা জানতেন, সেখানে ব্যবসা চলে। সে যে জঙ্গিমূলক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত তা স্থানীয়দের কাছে ছিল অজানা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সেখানে জামার ট্যাগ তৈরির কাজ চলত। ওইসব ছাপানোর আড়ালে অন্য কিছু চলত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঠিকানার আড়াল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না তদন্তকারীরা সেটাও খতিয়ে দেখছেন। উল্লেখ্য, এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেপ্তার করে কুখ্যাত জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসবাস করছিল এই সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর জঙ্গি হামিম মণ্ডল। ধৃত হামিমের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি এবং সূচি।
শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ডিটেইলস মিলেছে ওই জইশ জঙ্গির কাছ থেকে। কোন জেলায় কবে মুখ্যমন্ত্রী যাবেন তার তথ্যও ছিল হামিমের কাছে। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যার ছক কষা হয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় জড়িত সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ হামিম মণ্ডল এখানে নাশকতা ঘটাতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর তার জঙ্গি যোগের নানা তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার সঙ্গে তরুণ এই সন্ত্রাসবাদীর নিবিড় যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফ সূত্র থেকে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: হাওড়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ছক! ISI যোগ-বিদেশি ফান্ডিংয়ের তদন্তে চাঞ্চল্যকর দাবি STF-এর
এদিকে হামিমকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত তার বান্ধবীকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। শুক্রবার রাতে ঝাড়খন্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়। বেঙ্গল এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অর্পিতা জঙ্গিদের হয়ে মিডিলম্যান হিসাবে কাজ করতেন। তরুণীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মন্ডলের। ওই যুবকের সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ রয়েছে বলে এসটিএফ অফিসাররা মনে করছেন। তারপর ওই যুবকের বান্ধবী গ্রেপ্তার হবার পর তদন্তে নতুন মোড় নিল।

Leave a Comment