শিশুদের সুস্বাস্থ্যে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

By Suman Debnath

August 1, 2026 5:35 PM

শিশুদের সুস্বাস্থ্যে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করতে মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে শিশুর প্রধান পুষ্টির উৎস হওয়া উচিত মায়ের দুধ। পাশাপাশি নবজাতককে জন্মের পরপরই শালদুধ খাওয়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।


মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সিজারিয়ান প্রসবের হার বৃদ্ধি এবং সচেতনতার অভাবে অনেক নবজাতক শালদুধ ও মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে দেশজুড়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে।


জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পূর্বের কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিমাসে অন্তত একটি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

আরও পড়ুন:  ‘গঙ্গা পানিবণ্টনে নতুন চুক্তির দাবি বাংলাদেশের’


শিশুখাদ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারের গুঁড়ো দুধের পরিবর্তে ছয় মাস বয়সের পর শিশুদের জন্য ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার, যেমন চালের খুদ, ডাল, আলু ও শাক-সবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি বেশি উপযোগী।


মায়েদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতির দেওয়া এই অমূল্য উপহার থেকে কোনো শিশুকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। মায়ের বুকের দুধ শুধু শিশুর পুষ্টিই নিশ্চিত করে না, বরং তাকে নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তিও দেয়। তাই কৃত্রিম বিকল্পের পরিবর্তে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টিকে কারণ দেখিয়ে শিশুকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখেন, যা সঠিক নয়। অল্প বয়সে বিয়ে, সচেতনতার অভাব এবং মাতৃদুগ্ধ না খাওয়ানোর প্রবণতা শিশুদের অপুষ্টি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:  হঠাৎ ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহারে বিভ্রাট


স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আমার বাঙলা/ তালহা

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment