বর্ধমানে কথিত জইশ-যোগে অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডল গ্রেপ্তার মামলায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, আরও এক মন্ত্রীও সম্ভাব্য টার্গেটে ছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি।
বর্ধমানে কথিত জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-যোগে অভিযুক্ত হামিদ মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, শুধু তাঁকেই নয়, রাজ্য সরকারের আরও এক মন্ত্রী উমেশ রাই-কেও ওই জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বর্ধমানের একটি আবাসন থেকে হামিদ মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি-সংক্রান্ত একাধিক তথ্য উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, ওই তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য হামলার ছক কষা হচ্ছিল। এই অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শুধু আমি নই। আমাদের প্রতিমন্ত্রী (MoS) উমেশ রাইও এই স্ক্যানারে ছিলেন। আগামীকাল এসটিএফ সাংবাদিক বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত থাকতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তদন্ত এখনও চলছে, অনেক তথ্য সামনে আসা বাকি।”
তদন্তকারী সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ধৃত হামিদের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন তথ্য উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে কোথায় সভা হবে, কোন সময়ে তিনি পৌঁছাবেন, গাড়ি কোথায় থাকবে এবং পরবর্তী কর্মসূচির মতো তথ্যও ছিল বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি এবং তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা রয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে বলে দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফরসূচি-সংক্রান্ত তথ্য ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে। তবে সেই ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এখন নজর এসটিএফের পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠক এবং তদন্তে নতুন কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই।
Leave a Comment