বীরভূমের (Birbhum) মহম্মদবাজারে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিনার মণ্ডলকে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার মোট মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, পাশাপাশি এই বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও শুরু হয়েছে জোর তদন্ত।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহম্মদবাজারের ডেউচায় মিনার মণ্ডলের বাড়ির সামনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করা হয় এবং বাড়ি-সংলগ্ন এলাকা কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। রাতভর পুলিশি নজরদারির মধ্যেই উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াড নীলেশ শ্রীকান্ত জানান, বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে পুরো বাড়িটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। তদন্তকারীদের অনুমান, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নগদ অর্থ ও সোনার মোট মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছুঁতে পারে। এই বিপুল সম্পদের উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও মিনার মণ্ডলের পরিবারের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মিনারের স্ত্রী জানিয়েছেন, বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল প্রায় এক বছর আগে তাঁদের বাড়িতে ওই টাকা রেখে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, আলমারির চাবিও টুলু মণ্ডলের কাছেই ছিল এবং পরিবারের সদস্যরা এই বিপুল অর্থ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তাঁদের সংসার পেনশনের টাকাতেই চলে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কয়লা ও বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অতীতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে বেড়ে উঠেছিলেন। বর্তমানে সেই যোগসূত্র ভেঙে যাওয়ায় একের পর এক তথ্য সামনে আসছে এবং পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার সকালে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) লেখেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বীরভূম পুলিশ বালি মাফিয়া টুলু মণ্ডলের গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ মিনার মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহম্মদবাজার থানায় নিয়ে যায়। জেরার সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাড়ির বিভিন্ন আলমারি ও গোপন জায়গা থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। এত বিপুল পরিমাণ নোট গোনার জন্য পাঁচটি নোট গণনার মেশিন এবং পাঁচটি বড় ট্রাঙ্ক আনা হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় উদ্ধার হওয়া অর্থ সিউড়িতে বীরভূম জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তল্লাশি যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কারণে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কথা মাথায় রেখে বাড়িতে জেনারেটরও নিয়ে আসা হয়। একই সঙ্গে মিনারের ছেলেকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য, উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকার প্রকৃত মালিক কে, এই অর্থ ও সোনার উৎস কী এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর আর্থিক বা অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না। মিনার মণ্ডলের গ্রেপ্তারের পর এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
Leave a Comment