নিট (NEET) ও শিক্ষাব্যবস্থার গলদ নিয়ে সম্প্রতি স্থগিত হওয়া ছাত্র আন্দোলন ঘিরে নতুন করে তৈরি হল ঘোর অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ (CJP) কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ মারাত্মক অভিযোগ এনে ফের দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। মূল বিতর্ক তৈরি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশকে ঘিরে, যেখানে পুলিশকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সিজেপি-র দাবি, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ আদতে গত ২৫ জুলাই সরকারের দেওয়া লিখিত ও মৌখিক আশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সরকার যদি অবিলম্বে আদালতের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট না করে, তবে ভারতের ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজ ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
বিশ্বাসঘাতক?
মঙ্গলবার নিজেদের অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এক বিবৃতি প্রকাশ করে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকারের সলিসিটর জেনারেল বা আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন সিজেপি-র সঙ্গে হওয়া ২৫ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সমঝোতা ও আশ্বাসের বিষয়টি উত্থাপনই করেননি।
সৌরভ দাস বলেন, ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পদক্ষেপ করা হবে না। সেই সুনির্দিষ্ট ও লিখিত আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই আমরা সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশের ৪ নম্বর নির্দেশিকাকে ঢাল করে এখন কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি আন্দোলনকারী তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বজায় রেখে তাঁদের হেনস্থা করার হাতিয়ার বানাচ্ছে।
🚨URGENT STATEMENT🚨
The interim order passed by the Supreme Court of India in the batch of PILs related to the CJP protest must ring alarm bells across the country. In particular, Direction No. 4, which permits governments to proceed with existing FIRs and carry out…
— Saurav Das (@SauravDassss) July 28, 2026
সদিচ্ছার অভাব
সিজেপি-র বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায়ে রাজ্য সরকারগুলিকে এফআইআর তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি। বিহার এবং আসামের মতো রাজ্যগুলি ইতিমধ্যে অনেক মামলায় আর না এগোনোর নীতি গ্রহণ করেছে। সৌরভের মতে, কোনও মামলা প্রত্যাহার করার বা আর না এগোনোর একচ্ছত্র ক্ষমতা কার্যকরী কর্তৃপক্ষের (Executive) হাতেই থাকে। আদালত কখনওই বলেনি যে সরকারকে জোর করে এফআইআর চালিয়ে যেতেই হবে।
সংগঠনের অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পড়ুয়াদের ওপর দমনপীড়ন চালানোর ছক কষছে। সিজেপি দাবি করেছে, সরকার যেন আদালতের কাছে ২৫ জুলাইয়ের যাবতীয় শর্ত ও সদিচ্ছার কথা হলফনামা আকারে তুলে ধরে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়।
মঙ্গলবারই শেষ সময়সীমা
উল্লেখ্য, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের জন্য সরকারকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সিজেপি। সেই ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ার পর সংগঠনের বার্তা স্পষ্ট, কথা দিয়ে কথা না রাখা কোনও সরকারের বিরুদ্ধে চুপ থাকবে না দেশের যুবসমাজ। আমাদের দাবি অবিলম্বে মানতে হবে। সব এফআইআর বাতিল করতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দেশের রাজপথ আবার গর্জে উঠবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে সিজেপি-র এই আল্টিমেটাম ও অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। ফলে রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফের ছাত্রবিক্ষোভের উত্তাল মেঘ ঘনীভূত হতে শুরু করেছে।
Leave a Comment