---Advertisement---

হরমুজ প্রণালী খুলতে গেলে আমেরিকাকে মানতে হবে কঠোর শর্ত, কী কী দাবি ইরানের?

By Suman Debnath

August 9, 2026 5:50 PM

হরমুজ প্রণালী খুলতে গেলে আমেরিকাকে মানতে হবে কঠোর শর্ত, কী কী দাবি ইরানের?

---Advertisement---


হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একগুচ্ছ কঠোর শর্ত সামনে আনল ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও তেহরানের নতুন দাবিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরানের দাবি, আমেরিকা নিজেদের নীতি ও আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই জলপথ পুরোপুরি খুলবে না।

শনিবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তেহরানের প্রতি তার নীতি পরিবর্তন করতে হবে। এরপরেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান সম্মতি দেবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহণ হয়। ফলে দীর্ঘদিন এই নৌপথে জাহাজ চলাচল করতে না পারলে আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে, দেশটির বন্দরগুলির উপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের উপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারমে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। শুধু তাই নয়, ইরান আরও চায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হোক। এর পাশাপাশি দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের উপরে হামলা বন্ধ করা হোক। তেহরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ নিঃশর্তভাবে মুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ‘১১টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল’, ফের ভারত-পাক সংঘাত থামানোর দাবি ট্রাম্পের! নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও বড় মন্তব্য

ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রশ্নটি এখন কেবল নৌপথ খোলার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইরানের আটকে রাখা সম্পদের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের পরমাণু-সহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের বিভিন্ন বিষয়ও এর আগে তেহরানের দাবির তালিকায় ছিল। হরমুজ প্রণালী খোলার সঙ্গে এসব বিষয়কে যুক্ত করে ইরান আলোচনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: দাবানলের কবলে কানাডার ব্রিটিশ কলোম্বিয়া, জারি জরুরি অবস্থা, সরানো হল ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক এই তিন ধরনের পদক্ষেপ ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘সংঘাত এখনও শেষ হয়নি।’ ইরানের সর্বশেষ দাবির বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের সঙ্গে হওয়া আলোচনায় আশাবাদী। তাঁর দাবি, ইরান ও ওমান একটি সম্মত চুক্তিতে পৌঁছনোর খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে এর জন্য জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে চলতে হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  জর্ডনে হামলার পর কড়া জবাব আমেরিকার, ইরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! বহু হতাহতের আশঙ্কা

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment