নজরবন্দি ব্যুরো: পাকিস্তানের (Pakistan) অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে নতুন করে সামনে এল বালুচিস্তান (Balochistan)-এর স্বাধীনতার দাবি। স্বঘোষিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ (Republic of Balochistan) ঘোষণা করেছে, আগামী ১১ আগস্ট তারা ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন করবে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে সমর্থনের আবেদনও জানানো হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয় না এবং বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই দাবি করে।
বালুচ নেতৃত্বের দাবি, ১১ আগস্ট গোটা বালুচিস্তানজুড়ে স্বাধীনতার প্রতীকী উদযাপন করা হবে। শুধু পাকিস্তানের মধ্যেই নয়, বিদেশে বসবাসকারী বালুচ সম্প্রদায়কেও ওই দিন নিজেদের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, এই দিনটি বালুচ জাতিসত্তার ঐক্য এবং স্বাধীনতার দাবিকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার প্রতীক।
বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মুখ মীর ইয়ার বালুচ (Mir Yar Baloch) এক বিবৃতিতে বলেন, ১১ আগস্ট থেকে প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবস পালন করা হবে। তিনি সমর্থকদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার এবং জনসমাগমের জায়গায় ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর পতাকা উত্তোলনের আবেদন জানিয়েছেন।
বালুচ নেতৃত্বের অভিযোগ, পাকিস্তানের নীতির ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক অভিযান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, শুধু বালুচিস্তান নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর ভূ-রাজনীতিতেও ইসলামাবাদের বিভিন্ন নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সমর্থন চেয়ে বালুচ নেতারা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের অধীনে থেকে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। তাঁদের বক্তব্য, স্বাধীন বালুচিস্তান গঠিত হলে আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
১১ আগস্টকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে বেছে নেওয়ার ব্যাখ্যাও দিয়েছে ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’। সংগঠনের দাবি, ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট বালুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের দাবি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের বিভাজনের আগেই এই ঘোষণা হয়েছিল এবং সে সময় কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছিল। যদিও এই ঐতিহাসিক দাবি নিয়ে বিভিন্ন গবেষক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তান প্রতি বছর ১৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করে। অন্যদিকে, বালুচ স্বাধীনতাপন্থী সংগঠনগুলির একাংশ ১১ আগস্টকে তাদের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার দিন হিসেবে পালন করে আসছে। এবারও সেই কর্মসূচি আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
Leave a Comment