ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পর্যটন শিল্প (Nepal tourism )। প্রাথমিক হিসাবেই পর্যটন ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন নেপালি রুপি, ভারতীয় মুদ্রায় যা তিন হাজার কোটিরও বেশি। ক্ষতি হয়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, যানবাহন এবং বিভিন্ন পর্যটন পরিকাঠামোর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া এলাকার জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলি। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিদেশি পর্যটকদের বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও।
নেপালের পর্যটন দপ্তরের (Nepal tourism ) হিসাব অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের বন্যায় প্রায় ১৪২টি হোটেল, ৫৭টি রেস্তোরাঁ এবং ১৪২টি পর্যটন-সংশ্লিষ্ট যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: যমুনা এক্সপ্রসেওয়েতে ভয়াবহু দুর্ঘটনা, আগুনে পুড়ে মৃত ৯, জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন যাত্রীরা
সবথেকে বেশি সমস্যা হয়েছে লাংটাং ও গোসাঁইকুণ্ডের মতো জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলিতে। সেখানে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ট্রেকিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন অব নেপাল জানিয়েছে, ভোটেকোশির বন্যার পর কৈলাস ট্রেকের প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে। সংগঠনের আশঙ্কা, আসন্ন পর্যটন মরশুমে মোট বুকিংয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ বাতিল হতে পারে।
তবে নেপাল সরকার ও পর্যটন (Nepal tourism ) ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি বারবার জানাচ্ছে, বন্যার প্রভাব গোটা দেশে পড়েনি। লুম্বিনী, পোখরা, চিতওয়ান, সাগরমাথা এবং অন্নপূর্ণার মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলি (Nepal tourism ) এখনও পর্যটকদের জন্য খোলা রয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলিও চালু রয়েছে। ফলে বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে আন্তর্জাতিক প্রচার শুরু করেছে সরকার ও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড।
আরও পড়ুন: ‘বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার’: রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের চিঠির তীব্র সমালোচনা ভারতের
নেপালের হোটেল মালিকদের সংগঠনের সভাপতি বিনায়ক শাহ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে নিয়মিত সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য, রাসুয়া ও নুয়াকোটের মতো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা বাদ দিলে নেপালের অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রই (Nepal tourism) স্বাভাবিক রয়েছে।
বন্যার পরে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেকিং রুটগুলির বিকল্প পথ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের (Nepal tourism) আধিকারিকদের বক্তব্য, আগেও ভূমিকম্প, মাওবাদী সংঘাত এবং কোভিডের মতো ধাক্কা সামলে নেপালের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি পর্যটন ব্যবসাগুলির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তবে পরিকাঠামো মেরামতের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের (Nepal tourism) আস্থা ফেরানোই এখন নেপালের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জনপ্রিয় ট্রেকিং রুটগুলি কত দ্রুত নিরাপদ করা যায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বুকিং কতটা ফেরানো সম্ভব হয়, তার উপরই আগামী মরশুমে পর্যটন শিল্পের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।








Leave a Comment