---Advertisement---

‘আজ গুজরাটই বাংলায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে’, আমূল প্রকল্পের শিলান্যাসে বিগত সরকারকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

By Suman Debnath

July 19, 2026 6:45 PM

‘আজ গুজরাটই বাংলায় ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে’, আমূল প্রকল্পের শিলান্যাসে বিগত সরকারকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

---Advertisement---


পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগের নতুন অধ্যায়ের বার্তা দিয়ে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের দই উৎপাদন কারখানার শিলান্যাস হল রবিবার। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের (GCMMF) উদ্যোগে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পকে রাজ্যের দুগ্ধশিল্পের অন্যতম বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই তিনি পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে কটাক্ষ করেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একসময় বলা হতো, বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না। আজ সেই গুজরাটই পশ্চিমবঙ্গে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। যাঁরা সেই কথা বলতেন, তাঁরাও আজ এই প্রকল্প দেখছেন।” তাঁর দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাঁকরাইলের এই কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে রাজ্যের দুগ্ধ উৎপাদন, পশুপালন এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, “শ্বেত বিপ্লবের সঙ্গে এবার মিষ্টি বিপ্লবও শুরু হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত মিষ্টি দই এবার আমূলের মাধ্যমে সারা দেশে পৌঁছে যাবে।”

আরও পড়ুন:  অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকা, স্বামীদের বিরুদ্ধে পকসো মামলা; বাল্যবিবাহ রুখতে নতুন কৌশল পুলিশের

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একসময় পশ্চিমবঙ্গে গুজরাটের বিনিয়োগ নিয়ে আপত্তি তোলা হতো। তবে তাঁর মতে, এই প্রকল্প কোনও একটি রাজ্যের জন্য নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের পশুপালক, দুগ্ধ উৎপাদক এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই কারখানায় উৎপাদিত মিষ্টি দই পৌঁছে যাবে।

শুধু দই উৎপাদন কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি আমূল কর্তৃপক্ষকে পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে দুটি আইসক্রিম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। প্রয়োজনীয় জমি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন:  ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ, শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি—‘মমতার সাক্ষ্যই নেওয়া হয়নি, গুলির নির্দেশ মণীশ গুপ্তের’

রাজ্য সরকার মনে করছে, এই প্রকল্প শুধু শিল্প বিনিয়োগের দিক থেকেই নয়, কর্মসংস্থান, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি এবং দুগ্ধশিল্পের সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সাঁকরাইলের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ দেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেবে বলেই আশা প্রশাসনের।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment