বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়ে বিভ্রান্তি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বক্তব্য থেকে সরে বসতে দেখে অভিযোগ তৃণমূলের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কড়া জবাব— “নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান।”
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় (West Bengal Legislative Assembly) বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) নিয়ে ফের বিভ্রান্তি। বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বক্তব্য রাখতে উঠেও বসে পড়েন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের (Trinamool Congress) শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Shobhandeb Chattopadhyay)। এই নিয়ে কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ (Alifa Ahmed) মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ তোলেন, তাঁদের তরফে পাঠানো বক্তাদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাতেই বিরোধী দলকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সাফ জানিয়ে দেন, “আপনারা নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান। তা মেটানোর জন্য তো মুখ্যমন্ত্রী বা হাউস বসে নেই।”
বিধানসভায় বর্তমানে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Bandyopadhyay) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এই অবস্থায় অধিবেশন চলাকালীন কোন ‘বিরোধী দলনেতা’ বক্তব্য রাখবেন, তা নিয়ে দোটানায় পড়ে যায় বিরোধী দল। কারণ একপক্ষের তরফে সচিবের কাছে একরকম বক্তা তালিকা জমা দেওয়া হয়, পরে অন্য শিবির অন্য তালিকা দেয়। ফলে বক্তব্য রাখার সময় আগেও গোলমাল হয়েছে। বুধবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত শোভনদেবকে বসে পড়তে হয়।
এরপরই বিধায়ক আলিফা আহমেদ অভিযোগ তোলেন, “বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বক্তা হিসেবে যাঁদের নাম পাঠানো হচ্ছে, সেই নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এ প্রসঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি নিজে ৫ বছর বিরোধী দলনেতা ছিলাম। আমাদের চিফ হুইপ আছেন, তিনি হাউসে বলার টাইম দেন। আপনাদের নিজেদের ঝগড়া নিজেরা মেটান। এখানে তো মুখ্যমন্ত্রী বসে নেই সেই ঝগড়া মেটানোর জন্য। নিজেরা ঝগড়া মেটান আর সুষ্ঠুভাবে অধিবেশন চলতে দিন।” বিরোধী শিবিরের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আগামী দিনে বিধানসভায় আরও অচলাবস্থা তৈরি করবে কি না, সেটাই এখন দেখার।
Leave a Comment