নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে নবনিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলদের হাতে সোমবার নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারী জানান, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশে চার হাজার নিয়োগ হয়ে যাবে। নয় হাজার পুলিশের নতুন নিয়োগের পরীক্ষার নোটিফিকেশন নভেম্বর মাসে করবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড। আর ৬৫০ জন গ্রুপ-সি পুলিশের ক্লার্ক নিয়োগ হবে পিএসসি’র মাধ্যমে। তবে এদিন রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে প্রথম রাজ্য পুলিশের নিয়োগ হয়ে গেল। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার রাজ্য পুলিশের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন আশ্বাস দেন, দু’বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তরপ্রদেশের থেকে বেশি থাকবে সংখ্যায়। একইসঙ্গে ডিএ বৃদ্ধি, সপ্তম পে কমিশন এবং ওবিসি সংরক্ষণ জট ছাড়ানো নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘হাততালি চাই না, ক্রেডিট চাই না। শুধু বলতে চাই, সরকার পরিবর্তন না হলে এই নিয়োগ হতো না। দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাজ্য পুলিশের নিয়োগ। সাড়ে ৫ মাসে সেই জট কাটিয়ে রাজ্য পুলিশের নিয়োগ দিয়েই রাজ্যে সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের সূচনা হল। আগামী দু’বছরে পুলিশের সংখ্যায় উত্তরপ্রদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ।’
অন্যদিকে গত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রশাসনিক নীতি এবং আইনি জটিলতা তৈরিকে তীব্র আক্রমণ করেন। আর ১১ হাজার রাজ্য পুলিশের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। তারপর শুভেন্দু অধিকারীর তোপ, ‘যদি রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন না ঘটত তবে আজ এই হাজার হাজার যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া সম্ভব হতো না। আগের সরকার ওবিসি তালিকার নামে আইনি জট পাকিয়ে রেখেছিল এবং নিজেদের অন্যায় সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে জেদ ধরেছিল। আমরা যদি সুপ্রিম কোর্ট থেকে সুনির্দিষ্ট আইনি পথ বের করে না আনতাম, তবে এত দ্রুত এই বকেয়া নিয়োগ বাস্তবায়িত হতো না। সরকার এত দ্রুততার সঙ্গে এই কাজ না করলে আজকের এই আনন্দটা দেখতে পেতাম না। ওরাল বা ফিজিক্যাল, এতটুকু ত্রুটি থাকবে না। নিয়ম মেনে নিয়োগ হবে। বিশ্বাস রাখুন।’
তাছাড়া সিভিক ভলান্টিয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েও গত সরকারকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণ, ‘সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে থানা চালানো যুক্তিযুক্ত নয়, সেখানে সঠিক প্রশিক্ষিত কনস্টেবলদের প্রয়োজন। তবে সিভিকদের প্রতি আমাদের কোনও বিদ্বেষ নেই। আমরা তো ইতিমধ্যেই তাঁদের বেতন ২ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি। তবে আগামী দিনে প্রতিটি নিয়োগ হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত। নিয়মানুবর্তিতা মেনে ট্রেনিং প্রয়োজন। সিভিকদের ন্যূনতম কোনও পরীক্ষাই নেওয়া হয়নি। জানুয়ারি মাসে আবার রাজ্যে পুলিশে নিয়োগ হবে। ৩০০ এসআই সিলেকটেড কলকাতা পুলিশের। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৪০০০ পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলপ্রকাশ পাবে। ৯ হাজার নতুন নোটিফিকেশন, ৬৫০ পুলিশের ক্লার্ক নিয়োগ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে। আর কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ফারাক আগে ছিল ৪২ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই ২০ শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দিয়েছে। ফলে কর্মচারীরা খুব শীঘ্রই ৩৮ শতাংশ স্তরে পৌঁছে যাবেন।’
Leave a Comment