---Advertisement---

আমতলার পার্টি অফিস ভাঙা মামলায় নতুন মোড়! হাইকোর্টে রাজ্যের বড় দাবি

By Suman Debnath

July 28, 2026 1:35 PM

আমতলার পার্টি অফিস ভাঙা মামলায় নতুন মোড়! হাইকোর্টে রাজ্যের বড় দাবি

---Advertisement---


দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর পার্টি অফিস ভাঙাকে কেন্দ্র করে চলা মামলায় মঙ্গলবার নতুন মোড় এল। কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ রাজ্য সরকারের দাবি, যে অংশে প্রশাসন ভাঙার কাজ চালিয়েছে, সেটি তৃণমূল কংগ্রেস বা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস (Leaps and Bounds)-এর মালিকানাধীন সম্পত্তি নয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত ভাঙার প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার শুনানিতে রাজ্যের এই নতুন অবস্থানকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মূল বিতর্ক এখন জমির দাগ নম্বর এবং প্রকৃত মালিকানা নিয়ে। আদালতে রাজ্যের বক্তব্য, প্রশাসন যে অংশ ভেঙেছে, সেটি মামলাকারী সংস্থার মালিকানাধীন জমির মধ্যে পড়ে না।

ঘটনার সূত্রপাত ১৮ জুলাই। জেলা প্রশাসন দাবি করে, আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টি অফিসের একটি অংশ অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। এরপর বুলডোজার চালিয়ে সেই অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এর পরদিনই লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস জরুরি শুনানির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ছুটির দিনেও বিশেষ শুনানি হয় এবং বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী ভাঙার প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার নির্ধারিত শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের মালিকানা রয়েছে ৫০৯ এবং ৫১২ নম্বর দাগে। অথচ প্রশাসন যে অংশে ভাঙার কাজ করেছে, তা ৫০৭ নম্বর দাগে অবস্থিত। তাঁর দাবি, মামলাকারী সংস্থার মালিকানাধীন জমিতে কোনও ভাঙচুর করা হয়নি। ফলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এই দাবি তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।

অন্যদিকে মামলাকারী সংস্থার পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে অভিযোগ করেন, প্রশাসন পঞ্চায়েত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। তাঁর দাবি, কোনও ন্যূনতম নোটিস না দিয়েই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়, যা আইনি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এই কারণেই প্রশাসনের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আপাতত পূর্বের নির্দেশ বহাল রেখেছেন। আদালত জানিয়েছে, আগামী ৬ আগস্ট দুপুর ২টা পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং জমির মালিকানা, দাগ নম্বর ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফলে আমতলার পার্টি অফিস ভাঙাকে ঘিরে আইনি লড়াই এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রাজ্যের দাবি এবং মামলাকারীর অভিযোগ—দুইয়ের মধ্যে কোনটি আদালতের বিচারে গ্রহণযোগ্য হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment