সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাজ করিয়ে সমস্যা মেটাতে গেলে বিস্তর ঝক্কি পোহাতে হয় বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। এক দপ্তর থেকে আর এক দপ্তরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। এই দৃশ্য সকলেরই জানা। এবার সেই সমস্যা নিরসনে সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য সরকার। এক দপ্তরের ফাইল অন্য দপ্তরে গিয়ে আটকে থাকে বহুদিন। শুধু সম্মতির অভাবে গতি হারাচ্ছে সরকারি প্রকল্পের কাজও। দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও দেখা দিচ্ছে। এবার সরকারি কাজে গতি আনতে এবং নানা দপ্তরের মধ্যে ফাইল আটকে থাকার সমস্যা দূর করতে সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সময়সীমা বেঁধে দিল। এমনকী তা নিয়ে নির্দেশিকা জারি করলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল।
ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, একাধিক দপ্তরের মধ্যে ফাইল আদানপ্রদান এবং প্রয়োজনীয় মতামত বা সম্মতি জানাতে দেরি হওয়ায় সরকারি কর্মসূচি রূপায়ণে সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে দপ্তরগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেই নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দপ্তর থেকে কোনও চিঠি বা ফাইল এলে সেটা সাধারণত সাত কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। যেসব ফাইল দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে সেটার উপর নজরদারি চালানোর জন্য প্রত্যেকটি দপ্তরকে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক দপ্তরের সচিবদেরও নিয়মিত কাজ শেষ না হওয়া ফাইলের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে হবে।
কাজ ফেলে রাখলে সাধারণ মানুষের উপকার করা সম্ভব নয়। কারণ বহু প্রকল্পের ফাইল আটকে থাকছে বলে ক্ষুব্ধ শীর্ষ কর্তারা। তাঁরা এই বিষয়ে মুখ্যসচিবকে নালিশ করেছেন বলে সূত্রের খবর। তারপরই তড়িঘড়ি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও ফাইলের সম্মতি অনুমতির বিষয় নির্দিষ্ট দপ্তরগুলির মধ্যে আলোচনা করে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। দ্রুত সমাধানে কোনও অসুবিধা হলে তা মুখ্যসচিবের নজরে আনতে হবে। তার ফলে নানা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং প্রশাসনিক কাজে অযথা দেরি হবে না। এই কথা মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।
তাছাড়া নবান্ন সূত্রে খবর, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কোনও এক দপ্তরের ফাইল অন্য দপ্তরের সামান্য কোনও অনুমতি না পাওয়ায় তা আটকে আছে। আর তার জেরে থমকে রয়েছে প্রকল্পের কাজ। এই কাজে শ্লথ গতির জন্যই বহু ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এই জটিল পরিস্থিতি এড়িয়ে সরকারি কাজে গতি আনতেই এবার নয়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সচিবালয় ম্যানুয়াল, ২০১৯ এবং সরকারি কাজ পরিচালনার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সমস্ত চিঠি এবং ফাইলের নিষ্পত্তি করতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
Leave a Comment