---Advertisement---

‘যারা যাওয়ার, চলে যাক’, দল ভাঙনের মাঝেই লড়াইয়ের ডাক মমতার, ‘শূন্য’ থেকে ফের শুরু করার বার্তা

By Suman Debnath

July 15, 2026 6:45 PM

‘যারা যাওয়ার, চলে যাক’, দল ভাঙনের মাঝেই লড়াইয়ের ডাক মমতার, ‘শূন্য’ থেকে ফের শুরু করার বার্তা

---Advertisement---


রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা-জনপ্রতিনিধির দলত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে অতীতের মতোই নতুন করে লড়াই শুরু করার মানসিকতা তাঁর রয়েছে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দলের প্রতীক দেখে মানুষ ভোট দিয়েছেন। যারা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ১৯৯৭ সালে আমি একা লড়াই শুরু করেছিলাম। তখন যেমন পেরেছি, আজও প্রয়োজনে শূন্য থেকে শুরু করার শক্তি আমার আছে।”

সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বুধবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। শিবির বদলের পর তিনি দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন।

আরও পড়ুন:  জাহাঙ্গীরের 'ডান হাত'-এর বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ, এবার গ্রামবাসীদের হাতে লক্ষাধিক টাকা ফেরত

এই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মদনের নাম না করলেও বলেন, “অভিষেককে অজুহাত করা হচ্ছে। ওর ভুল হলে তা সংশোধন হয়েছে। ও লড়াই করছে, আগামী দিনেও করবে।”

দলত্যাগের নেপথ্যে তদন্তকারী সংস্থার চাপের ইঙ্গিতও দেন তিনি। মমতার দাবি, কয়েকজন নেতার পরিবারের সদস্যদের নামে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং সেই চাপের কারণেই কেউ কেউ দল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আজ যিনি গিয়েছেন, আগেই জানিয়েছিলেন তাঁর পরিবারের কাছে তদন্তকারী সংস্থার নোটিস এসেছে। তখনই বুঝেছিলাম কী হতে চলেছে।”

দলের অতীত সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালে দল গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনে লড়াই করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল তৃণমূল। তিনি বলেন, “এক সময় আমরা হাতে গোনা কয়েকজন সাংসদ নিয়ে শুরু করেছিলাম। তারপরও লড়াই চালিয়ে গিয়েছি। আজও যদি প্রয়োজন হয়, আবার শূন্য থেকে শুরু করব।”

আরও পড়ুন:  শুক্রু ও শনি তপসিয়ার রিসর্টে ঋতব্রত শিবিরের বৈঠক

আসন্ন ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস নিয়েও কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এ বছর কালীঘাট শিবিরের সমাবেশ হবে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে। সেই কর্মসূচি নির্ধারিত সময়েই হবে বলে জানিয়েছেন মমতা।

তিনি আরও বলেন, ২০ জুলাই নিজে সভাস্থল পরিদর্শনে যাবেন এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবেন যাতে কর্মসূচির সময় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না তৈরি হয়। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “মাইক না থাকলেও, খোলা গলাতেও সভা করা যায়। আমরা যে সভা করব বলেছি, তা হবেই।”

দলীয় ভাঙন, রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তাকে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment