দিল্লির যন্তর-মন্তরে দীর্ঘদিনের অনশনের পর সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, প্রয়োজন হলে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের দাবি, দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার আবেদন জানালেও সেই বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
তৃণমূল নেত্রীর মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী মতকে গুরুত্ব না দিয়ে নীরব থাকা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ নয়।
বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, প্রয়োজনে সোনম ওয়াংচুককে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে সাধারণ মানুষও চিকিৎসার খরচ বহনে এগিয়ে আসতে পারেন।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, জনগণের আস্থা অর্জনের একমাত্র পথ হল দায়িত্বশীল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সম্মান করা।
উল্লেখ্য, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মতামত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য
দিল্লি পুলিশের দাবি, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতেই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
অনশন ঘিরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। সেই আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেও দীর্ঘ অনশনের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তাঁর টানা অনশন জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছিল। সাম্প্রতিক এই আন্দোলনের সময়ও তিনি সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।
এখন সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি এবং তাঁর আন্দোলন ঘিরে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
Leave a Comment