বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে তাঁর পরিবারের দাবি সামনে আনলেন অগ্নিমিত্রা পাল। শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন, আকাশবাণী ভবনের সামনে মূর্তি এবং বাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণার প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।
নজরবন্দি ব্যুরো: মহালয়ার কণ্ঠস্বর হিসেবে বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra)-র স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবার সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। তাঁর জন্মদিনে শ্যামবাজারে গিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানান, শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের (Shyambazar Metro Station) নাম বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি আকাশবাণী ভবনের (Akashvani Bhavan) সামনে তাঁর মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের শ্যামবাজারের বাসভবনে যান অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানেই তাঁর পরিবারের সদস্য এবং শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। আলোচনার পর তিনি জানান, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিকে আরও মর্যাদা দিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সামনে এসেছে।
প্রথম প্রস্তাব, উত্তর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে রাখা। দ্বিতীয় প্রস্তাব, আকাশবাণী ভবনের সামনে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা। এই দুই প্রস্তাবই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কাছে ব্যক্তিগতভাবে তুলে ধরবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল।
এছাড়াও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ঐতিহাসিক বাসভবনকে হেরিটেজ ভবনের স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবও সামনে এনেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তাঁর স্মৃতিকে সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন প্রখ্যাত বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা এবং নাট্যপরিচালক। তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক মহালয়ার ভোরে সম্প্রচারিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান। ১৯৩১ সাল থেকে আকাশবাণীর এই অনুষ্ঠান বাঙালির দুর্গাপুজোর সূচনার অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতীক হয়ে রয়েছে। তাঁর কণ্ঠ আজও মহালয়ার ভোরকে এক অনন্য আবহে ভরিয়ে তোলে।
উল্লেখ্য, কলকাতা মেট্রোর (Kolkata Metro) ব্লু লাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশন ১৯৯৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাধারণ যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছিল। স্টেশনের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব এবং মন্ত্রীর সমর্থনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
Leave a Comment