---Advertisement---

বর্ধমান মেডিক্যালে প্রথম ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাইলফলক

By Suman Debnath

July 11, 2026 8:20 PM

বর্ধমান মেডিক্যালে প্রথম ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচার পরিষেবায় নতুন মাইলফলক

---Advertisement---





পূর্ব বর্ধমানের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিভাগে প্রথমবার সফলভাবে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের পর কলকাতার বাইরে সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে বর্ধমান মেডিক্যালই প্রথম এই অত্যাধুনিক পরিষেবা চালু হল।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, দু’বছর বয়সি এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর দেহে সফলভাবে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বসানো হয়েছে। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন এসএসকেএম হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ অরিন্দম দাস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ঋতম রায়, ডাঃ আর্যব্রত দুবে এবং অধ্যাপক সোমনাথ সাহার তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল। অস্ত্রোপচারের সময় ককলিয়ার ইমপ্লান্টের সমস্ত ইলেক্ট্রোড সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে বলে চিকিৎসকদের দাবি।

আরও পড়ুন:  প্রাক্তন ডিসিপির শান্তনু সিনহার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ ইডির, মিলল বিপুল সম্পত্তির হদিশ

অস্ত্রোপচারে অ্যানাস্থেসিয়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সুমন্ত ঘোষ মৌলিক, সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সৌমেন মণ্ডল, জুনিয়ার রেসিডেন্ট ডাঃ মুকেশ কুমার-সহ ইএনটি অপারেশন থিয়েটারের নার্সিং কর্মী, প্রযুক্তিবিদ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বেসরকারি হাসপাতালে এই ধরনের অস্ত্রোপচারে সাধারণত ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। কিন্তু রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিষেবা চালু হওয়ায় জেলার বহু শ্রবণ  প্রতিবন্ধী শিশু ও তাঁদের পরিবার ভবিষ্যতে উপকৃত হবেন।

চিকিৎসকদের মতে, ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় দু’বছর ধরে নিয়মিত অডিওলজি ও স্পিচ থেরাপি প্রয়োজন হয়, যাতে তারা ধীরে ধীরে শব্দ শুনতে এবং ভাষা শেখার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পুনর্বাসনের সময়কাল সাধারণত ছয় মাস। একবার সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হলে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট ৭০ থেকে ৭২ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলেও চিকিৎসকদের দাবি।

আরও পড়ুন:  অভিষেককে চূড়ান্ত হুশিয়ারি বিচারপতির, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিন, না হলে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অধ্যক্ষ মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক তাপস ঘোষের ধারাবাহিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান ছিল। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে এই সাফল্য সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলে মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment