তৃণমূল কংগ্রেসের আর্থিক লেনদেন ঘিরে তদন্ত আরও জোরালো করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, দলের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাব নিয়ে অসঙ্গতির প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ লেনদেনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যদিও ইডির এই দাবি সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কী দাবি করছে ইডি?
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি অ্যাকাউন্টে আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইডির দাবি, মূল অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে সমস্ত আর্থিক নথি ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
আগেই ফ্রিজ করা হয়েছে কয়েকটি অ্যাকাউন্ট
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এর আগে তৃণমূলের মোট সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে তিনটিতে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপরই মূল অ্যাকাউন্টের লেনদেনও তদন্তের আওতায় এসেছে।
ইডি এখন ওই অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কোথায় গিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে খরচ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সঙ্গে লেনদেনের মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে ঘিরে তদন্ত
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দলীয় তহবিল থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ Carewell Aviation নামে একটি সংস্থা এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
ইডির অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে বিমান ও হেলিকপ্টার কেনা হয়েছিল এবং পরে সেই উড়ান পরিষেবাই তৃণমূলের নেতাদের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হতো। এই আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি ও বৈধতা নিয়েই তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলি ইডির দাবি। সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত নয়।
অরূপ বিশ্বাসের চিঠি ঘিরেও বিতর্ক
এর আগে দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অরূপ বিশ্বাস একটি ব্যাঙ্কে চিঠি লিখে দলীয় অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আবেদন করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
চিঠিতে তিনি দলীয় পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও ওই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান। এরপর বিষয়টি নিয়ে থানায় আবেদনও করা হয়।
তদন্ত কোন দিকে?
ইডি এখন ব্যাঙ্কের কাছ থেকে চাওয়া নথি ও লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করবে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আর্থিক লেনদেনের প্রকৃতি পরিষ্কার হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে, এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের।
Leave a Comment