---Advertisement---

ধর্মীয় কারণে পানীয় জল বন্ধ জ্যোতিনগর কলোনিতে, রাষ্ট্রপুঞ্জে নালিশ সামিরুলের

By Suman Debnath

October 9, 2026 11:45 AM

ধর্মীয় কারণে পানীয় জল বন্ধ জ্যোতিনগর কলোনিতে, রাষ্ট্রপুঞ্জে নালিশ সামিরুলের

---Advertisement---


কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের জ্যোতিনগর কলোনি এখন খবরের কাগজের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। কারণ গত ২৯ জুলাই তারিখ থেকে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিদ্যুৎ সংযোগও। বিদ্যুতের ব্যবস্থা এখন হলেও তিনমাস ধরে সেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়নি। পানীয় জলের হদিশ এখনও করে উঠতে পারেননি জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা। দিনের পর দিন কলোনির কলের মুখ শুকনো। এই জল যন্ত্রণা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম। এবার এই অভিযোগ তুলে সরাসরি রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যসভার তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সামিরুল ইসলাম।

এদিকে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এই জ্যোতিনগর কলোনিতে পাঁচ হাজার বালিন্দার জলের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কোনও এক অজ্ঞাত কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। এবার সমাজমাধ্যমে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকে করা নালিশের চিঠির কপি পোস্ট করে সামিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওই কলোনির বাসিন্দারা সরকারি পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তাঁরা বিজেপির সো-কল্ড ভোটব্যাঙ্কের অংশ নন বলেই পরিকল্পনা করে পাইপলাইনের পানীয় জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সেটা আর চালুও করা হয়নি।

অন্যদিকে কলকাতার বুকে জ্যোতিনগর কলোনির প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দার জল সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যসভার সাংসদ। সামিরুলের অভিযোগ, কোনও প্রত্যন্ত এলাকা নয় এটা। খোদ কলকাতা শহরের মধ্যে একটি এলাকাতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাসিন্দারা একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হওয়ার জেরেই তাঁদের জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সামিরুল উল্লেখ করেন, প্রায় দু’মাস ধরে এই এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার বাসিন্দা চরম জলসংকটে ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে কটি সংস্থা নিজস্ব উদ্যোগে বাইরে থেকে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সাময়িক জলের ব্যবস্থা করলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। তার জেরে শিশু, প্রবীণ এবং সম্পূর্ণ পরিবারগুলি চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

তাছাড়া এখানেই শেষ নয়, ওই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। এটি মৌলিক মানবিক অধিকার হরণ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। পরিচ্ছন্ন পানীয় জল পাওয়ার অধিকার একটি স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার। আর তা না পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে এবং মহামারী বা ছোঁয়াচে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংস্থা অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment