আর ৮ দিনের মাথায় রাজ্যজুড়ে পালিত হবে দুর্গাপুজো। পশ্চিমবঙ্গের মানুষজন তাতে সামিল হবেন। কিন্তু তাঁদের দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে রেশন প্যাকেজ দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল রাজ্য খাদ্যদপ্তর। রাজ্যের নাগরিকরা যাতে উৎসবের সময় খাদ্য নিয়ে কোনও অসুবিধায় না পড়েন সেটাই চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের মরশুমে যাতে সকলের মুখে হাসি ফোটে তার জন্য এবার কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই চিঠিতে তিনি রাজ্যবাসীর স্বার্থে খাদ্যসামগ্রীর দাবি করেছেন। রাজ্যের মানুষের জন্য যে তিনি সদাই চিন্তা করেন সে কথা ফুটে উঠেছে ওই চিঠিতে।
এদিকে ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র আওতায় আছেন রাজ্যের ৬ কোটি রেশন গ্রাহক। তাঁদের জন্য বেশি পরিমাণে চাল বরাদ্দ করা হোক বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষের চালের প্রতি বেশি আগ্রহ এবং কৃষকদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ জরুরি। আর অন্ন যোজনার আওতায় থাকা এসপিএইচ শ্রেণির রেশন গ্রাহকরা মাসে মাথাপিছু ২ কেজি চাল এবং ৩ কেজি করে গম পান। অন্ত্যোদয় রেশন গ্রাহকদের মাসে পরিবার পিছু ২০ কেজি গম এবং ১৫ কেজি চাল দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রস্তাব দিয়েছেন, এটা বদল করে ৩ কেজি চাল এবং ২ কেজি গম ও অন্ত্যোদয় প্রকল্পে ২০ কেজি চাল এবং ১৫ কেজি গম দেওয়া হোক।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে ব্যবস্থা ছিল এবার সেটাই ফিরিয়ে আনার কথা চিঠিতে লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রেশন গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজনীয় চাল রাজ্যের কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে সেটা থেকেই উৎপাদন করা হয়। পরিমাণ পরিবর্তন করলে রাজ্য সরকার আরও বেশি করে ধান কেনার সুযোগ পাবে। এতে কৃষকদেরও উপকার হবে। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে জানান, রাজ্যে গত মরশুমে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। ৭১ লক্ষ কৃষক পরিবারের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক শ্রেণির। সরকারি উদ্যোগে বেশি ধান কেনা হলে অভাবী বিক্রি বন্ধ হবে। কৃষকরা রক্ষা পাবে। এমনকী অন্ন যোজনার গ্রাহকদের চালের চাহিদা অনুযায়ী এবার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে রাজ্য সরকার। রেশনে চালের চাহিদা বাড়লে আরও ধান কৃষকদের কাছ থেকে কেনার সুযোগ পাওয়া যাবে।
তাছাড়া খাদ্যদপ্তর সূত্রে খবর, এক কেজি গম কমিয়ে সেই পরিমাণ বেশি চাল দিতে গেলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একবছরে কেন্দ্রীয় সরকারকে ৯৭৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। এই বিষয়ে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের গ্রাহকদের কিছুটা হলেও গমের চাহিদা আছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের জন্য যাতে কম খরচে গম পাওয়া যায় সেটার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা অনুরোধ করেছিলেন।
Leave a Comment