দিল্লিতে (New Delhi) এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে সাংসদদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার কথা শোনেন তিনি। পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-কে কেন্দ্র করে বড় আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের জন্য একাধিক প্রশাসনিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি।
সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের পাশাপাশি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev), সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy) এবং প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Chik Baraik)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav) এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey)-ও।
দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে বিভিন্ন সাংসদ তাঁদের নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে লিখিত প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অনেক সাংসদ অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁদের ঘনিষ্ঠ কর্মী-সমর্থকদের অনেক এলাকায় প্রবেশ করতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই বিষয়েও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নাকি জানিয়েছেন, প্রত্যেক সাংসদকে ৫,০০০ জন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীর সুপারিশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সাংসদরা তাঁদের এলাকার আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এনসিপিআই সাংসদ বাপি হালদার (Bapi Haldar) বৈঠকের পর দাবি করেন, ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর জন্য দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে স্থানীয় স্তরে আইনশৃঙ্খলা ও সংগঠনের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে জুন মালিয়া (June Malia) জানান, এনসিপিআই সাংসদদের এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে যাতে কোনও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে না হয়, সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ দিন সকালে এনডিএ বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ আবু তাহের (Abu Taher), খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman) এবং ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। তাঁদের উপস্থিতি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লির এই বৈঠককে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ। বিশেষ করে নতুন দলে যোগ দেওয়া সাংসদদের সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়ার দিকেই এই বৈঠকের মূল গুরুত্ব বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
Leave a Comment