শরৎ এল রে: লক্ষ্মী-সরস্বতী ও গণেশ-কার্তিক কি দুর্গারই সন্তান?

By Suman Debnath

September 27, 2026 6:10 PM

শরৎ এল রে: লক্ষ্মী-সরস্বতী ও গণেশ-কার্তিক কি দুর্গারই সন্তান?


শরতের নীল আকাশ আর পেঁজা তুলোর মতো মেঘ দেখলেই মন উড়ু উড়ু হয়ে ওঠে। মন গেয়ে ওঠে দুর্গা পুজো (Durga Puja) এসে গিয়েছে। উমার বাপের বাড়িতে আসার সময় হল। উমা একা আসবেন না, সঙ্গে থাকবে তার চার সন্তান। সপরিবারে চারদিন কাটিয়ে যাবেন বাপের বাড়িতে। দুর্গা একমাত্র বাংলার মাটিতেই সপরিবারে পূজিতা হন। বাংলা ছাড়া আর কোথাও তাঁকে সন্তান-সহ দেখা যায় না। কারণ লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক তাঁর সন্তান নন। বাংলাতেই তাঁদের কল্পনা করা হয়েছে দুর্গার সন্তানরূপে। বেদ বা পুরাণ অনুযায়ী, চারজনের কেউই মা দুর্গার (Durga Puja) গর্ভজাত সন্তান নন। কালের বিবর্তনে তাঁরা হয়েছেন দেবীর সন্তান।

আরও পড়ুন:  শরৎ এল রে: রাবণকে বধ করতে পদ্মফুল সাহায্য করেছিল, জানুন কীভাবে

মার্কণ্ডেয় চণ্ডী, কালিকাপুরাণ, ভাগবৎপুরাণে পার্বতীর কোন সন্তানের উল্লেখ নেই। বরং লক্ষ্মী এবং সরস্বতী সম্পূর্ণ বৈদিক দেবী। বৈদিক মতে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর উৎস শ্রী শক্তি বা ‘শ্রী’ দেবী। পৌরাণিক সাহিত্য অনুযায়ী, লক্ষ্মী কোথাও নারায়ণের স্ত্রী আবার কোথাও সমুদ্রমন্থনে ঘৃত থেকে উত্থিত।

আরও পড়ুন:  মেট্রোর টিকিট কাটতে আর দীর্ঘ লাইন নয়, কিউআর কোড ও পেটিএমেই মিলবে সমাধান

কার্ত্তিকেয় বা ষড়াননের জন্ম নিয়ে একাধিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। বাল্মীকি রামায়ণে কার্তিক বা মহাতেজ কার্ত্তিকেয় অগ্নির সন্তান এবং পার্বতীর দিদির গর্ভজাত। আর মহাভারতে কার্ত্তিকেয় হলেন অগ্নিদেব এবং দক্ষকন্যা স্বহার সন্তান।

আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: কৃষ্ণের মঙ্গল কামনা করে গোপিনীরা সিঁদুর খেলতেন, তাহলে কী করে দুর্গাপুজোয় চালু হল সিঁদুর খেলা?

শিব পুরাণে পাওয়া যায় গণেশের বৃত্তান্ত। দুর্গার ইচ্ছে হল, শিবের নন্দীর মতো তারও আজ্ঞাবহ কেই থাকবে। একদিন স্নানের আগে হলুদবাটা দিয়ে তিনি বানালেন একটি মূর্তি। তাতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করলে জন্ম নেয় গণেশ। পার্বতী গণেশকে নির্দেশ দেন যাতে তাঁর ঘরে কেউ ঢুকতে না পারে। সেই সময় দরজায় হাজির মহাদেব। পার্বতীর কথা মেনে গণেশ তাঁকে আটকায়। রেগে যান শিব। তাঁকে হত্যা করতে নির্দেশ করেন। গণেশকে কেউ হত্যা করতে পারল না।

আরও পড়ুন:  ‘কলকাতা কথকতা’-র আয়োজন শতবর্ষে উত্তম, প্রদর্শন চলছে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা এবং ক্যালকাটা ক্লাবে

অবশেষে শিব গণেশের মুণ্ড কেটে নেন। মারা যান গণেশ। এই দেখে পার্বতী প্রচণ্ড রাগে সব সৃষ্টি ধ্বংস করে ফেলবেন ঠিক করেন। স্ত্রী পার্বতীকে (Durga Puja) শান্ত করতে মহাদেব ব্রহ্মার আশ্রয় নেন। উত্তরমুখী যে কোনও প্রাণীর মাথা নিয়ে আসতে বলেন। ব্রহ্মা হাতির মাথা নিয়ে এলে সেটি গণেশের মাথায় প্রতিস্থাপন করা হয়। পরে তাঁকে গণাধিপতি করলেন শিব। আর এই বৈদিক দেবীদেবীরা মধ্যযুগে বাংলার মঙ্গলকাব্যে এসে হয়ে গেলেন পার্বতীর সন্তান। মানুষের কল্পনায় সংসারের বাঁধনে বাঁধা পড়লেন বৈদিক দেবদেবীরা।

দেখুন:

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment