ছট ও কালীপুজোর বিসর্জনে নিরাপত্তায় তিন স্তরীয় বলয়, ঘাটে ঘাটে পরিদর্শনে অগ্নিমিত্রা

By Suman Debnath

November 4, 2026 2:00 PM

ছট ও কালীপুজোর বিসর্জনে নিরাপত্তায় তিন স্তরীয় বলয়, ঘাটে ঘাটে পরিদর্শনে অগ্নিমিত্রা


উৎসবের আনন্দে যাতে কোনওভাবেই বিষাদের ছায়া না নামে, তা নিশ্চিত করতে ছটপুজো ও কালীপুজোর বিসর্জন ঘিরে আগেভাগেই তৎপর প্রশাসন। বুধবার শহরের গঙ্গার ঘাটগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর হাল সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এদিন লঞ্চে চড়ে একাধিক ঘাট পরিদর্শন করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়।

চোরবাগানের সাম্প্রতিক ঘটনার পর ঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ রাজ্য সরকার। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে জলের গভীরতা, জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি, ঘাটের পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, সব দিকই খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে মন্ত্রীদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনেই ঘাট পরিদর্শনে নেমেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা।

Agnimitra Paul
Photo: Statesman

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এবার শহরের ঘাটগুলিতে থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, ব্যারিকেড এবং নিরাপত্তারক্ষীর পাশাপাশি মোতায়েন থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকেরাও। তাঁদের গলায় পরিচয়পত্র ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। উৎসবের আগের দিন থেকে ছটপুজোর পরের দিন পর্যন্ত বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখবে কলকাতা পুরসভা। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করতেই এই ব্যবস্থা।

আরও পড়ুন:  মুর্শিদাবাদ ট্রেন দুর্ঘটনায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, ‘দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা’

শুধু নিরাপত্তা নয়, ঘাটের পরিকাঠামো নিয়েও একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। মহিলা পুণ্যার্থীদের জন্য পৃথক পোশাক পরিবর্তনের ঘর, পর্যাপ্ত বায়ো-টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা রাখার কথা বলা হয়েছে। ঘাট পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ দল মোতায়েন করা হবে। ভিজে ও শুকনো বর্জ্য পৃথকভাবে ফেলার জন্য রাখা হবে বড় ডাস্টবিন। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।

Agnimitra Paul
Photo: Statesman

ঘাট পরিদর্শনের পর আগের সরকারের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর কথায়, ‘বিগত সরকার কিছুই করেনি। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাজ করেনি বলেই এখন আমরা এই কাজগুলি করার সুযোগ পাচ্ছি।’ সরকারি কর্মীদের উদ্দেশেও তাঁর বার্তা, শুধু অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। কাজ করতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন:  কলকাতার পর এবার হুগলি, মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে কালীঘাট তৃণমূল
Agnimitra Paul
Photo: Statesman

তবে সব ঘাটের পরিস্থিতি যে সন্তোষজনক, তা নয়। মন্ত্রী জানান, কয়েকটি ঘাটে প্রচুর ময়লা জমে রয়েছে। ছটপুজোর আগে সবটা পরিষ্কার করা সম্ভব হবে না বলেও স্বীকার করেন তিনি। এর পাশাপাশি ঘাটে শ্যাওলা জমে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জগদ্ধাত্রী ও শ্যামাপুজোর বিসর্জনের জন্য ট্রলির ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: মেরিন ড্রাইভের আদলে গঙ্গার পাড়, ব্যাঙ্ককের আদলে ‘হকার জোন’, নতুন রূপে সাজবে রাজ্য

উৎসবের মরসুমে ভিড়, নদীর জলস্তর এবং ঘাটের পরিকাঠামো, তিন ক্ষেত্রেই সমন্বয় বজায় রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার ঘাটে ঘাটে নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।

Suman Debnath

Journalist

Related Stories

No comments to show.

Leave a Comment