মাঝে আর একটা মাস। তারপরই অক্টোবর মাস। অর্থাৎ দুর্গাপুজোর আমেজে ভাসবে পশ্চিমবঙ্গ। তার একসপ্তাহ আগে বেজে উঠবে, আশ্বিনের শারদ প্রাতে, বাজলো তোমার আলোর বেনু, রূপংদেহী জয়ংদেহী-সহ মহিষাসুরমর্দিনী। যা বাঙালির হৃদয় ছুঁয়ে আছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ওই একদিনই এখন রেডিও বেজে ওঠে সকলের বাড়িতে ভোরবেলায়। যা আকাশবাণী থেকে সম্প্রচার করা হয়। আর যাঁর কালজয়ী কণ্ঠে তা শোনা যায়, তিনি হলেন প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। এবার দুর্গাপুজোর আগেই বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কারণ প্রবাদপ্রতিম বেতার ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ১২২তম জন্মজয়ন্তী মঙ্গলবার উদযাপিত হলো উত্তর কলকাতায়।
এদিন জন্মদিন উপলক্ষ্যে উত্তর কলকাতার ৩০বি রামধন মিত্র লেনে অবস্থিত তাঁর ঐতিহাসিক বাসভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত হয়ে এই বেতার শিল্পীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী যখন শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন, তখন পরিবারের সদস্যরা তাঁর মাধ্যমে নতুন রাজ্য সরকারের কাছে দুটি প্রস্তাব রাখেন। এক, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে প্রখ্যাত এই শিল্পীর নামে রাখা হোক। দুই, আকাশবাণী ভবনের ভিতরে বেতার জগতের এই মহান শিল্পীর একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
এই কথা শোনার পরই বড় উদ্যোগ নেয় রাজ্যের বিজেপি সরকারের। প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জন্মদিনে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এই শিল্পীর নামে মেট্রো স্টেশনের নামকরণের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর শ্যামবাজারের বাড়ি গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে দেখা করেন পরিবারের লোকজনের সঙ্গে। সেখানে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিতে গিয়ে অগ্নিমিত্রার প্রস্তাব, ‘বাড়িটি ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হবে এবং বাড়ির নিকটবর্তী শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম বদলে হোক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নামে।’ কালের গতিতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের বিশাল বাড়িটি এখন পুরনো চমক হারিয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। তাই বাড়িটি হেরিটেজ তকমা পেলে পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে মনে করেন সকলে।
তাছাড়া মহালয়ার ভোরে যাঁর ‘চণ্ডীপাঠ’ শুনে দিন শুরু হয় সেই কণ্ঠশিল্পীর মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা। বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পুত্রবধূ সুস্মিতা ভদ্রের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেছেন মন্ত্রী। তারপর পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘বাঙালির আবেগের সঙ্গে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর পরিবারের এই দুটি আবেগপূর্ণ এবং যুক্তিযুক্ত দাবির কথা আমি অবশ্যই আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পৌঁছে দেব। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’
Leave a Comment