শুক্রবার গভীর রাতে রাজারহাটে বিস্ফোরণ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। দক্ষিণ নারায়ণপুরের সুপারি বাগান এলাকায় একটি বাড়ির ভিতরে আচমকা প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। প্রাথমিকভাবে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর মিলেছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর নেই। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নারায়ণপুর ও রাজারহাট থানার পুলিশ।
কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে দুই নাবালক একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়ির একটি ঘরে ব্যাগটি রেখে তারা বাইরে বেরিয়ে আসে। কিছুক্ষণ পরেই আচমকা প্রবল শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে বাড়ির অন্তত দুটি ঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দারাও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
সুতলি বোমার বিস্ফোরণ? তদন্তে পুলিশ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সুতলি বোমা ফেটে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার পরই নারায়ণপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করে। পরে রাজারহাট থানার পুলিশও তদন্তে যোগ দেয়। দুই থানার যৌথ তদন্তে ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভাড়াটিয়াদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগেই ওই বাড়িতে দুই ব্যক্তি ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। বিস্ফোরণের আগে ও পরে কারা ওই বাড়িতে যাতায়াত করেছেন, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
নাবালকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, যে দুই নাবালক ব্যাগটি বাড়িতে নিয়ে এসেছিল, তারা ব্যাগের ভিতরে কী ছিল, তা হয়তো নিজেরাও জানত না। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
তদন্তকারীরা ওই দুই নাবালকের পরিচয় এবং তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, সেই সূত্রও খুঁজে দেখছেন।
আতঙ্কে এলাকাবাসী
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, বিস্ফোরক কীভাবে ওই বাড়িতে এল এবং এর পিছনে কারা জড়িত—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
Leave a Comment