করোনাকালে সরকারি টেলি-চিকিৎসা পরিষেবা চালু করতে কেনা কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জামের একাংশের আর হদিশ মিলছে না। স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য ভবন। রাজ্যের অন্তত ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কম্পিউটার-সহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম উধাও হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার তদন্তে রাজ্যের সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। সেই সঙ্গে যে আধিকারিক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
করোনার সময়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের যোগাযোগ তৈরি করতে চালু হয়েছিল ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নামে টেলি-চিকিৎসা প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বসেই মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পান। সেই পরিষেবা চালু করতে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের কেন্দ্রীয় অনুদানের অর্থে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বসানো হয়েছিল বিপুল সংখ্যক কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ। এর পাশাপাশি কেনা হয়েছিল বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিদর্শন ও রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বহু জায়গায় সেই সরঞ্জামের সম্পূর্ণ বা আংশিক হদিশ নেই। কোথাও কম্পিউটারের পর্দা রয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ-সহায়ক যন্ত্র নেই। কোথাও বিদ্যুৎ-সহায়ক যন্ত্র থাকলেও তার ভিতরের ব্যাটারি বা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আবার কোনও কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম্পিউটারের পর্দাই পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে নিখোঁজ সরঞ্জামের আর্থিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমন ঘটনা ধরা পড়েছে বলে দপ্তর সূত্রের খবর।
আরও পড়ুন: অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙায় ‘স্থিতাবস্থা’, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল অন্তর্বতী স্থগিতাদেশ
সরঞ্জামগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সব জায়গায় এক ছিল না। কোথাও দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক, কোথাও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, কোথাও কমিউনিটি স্বাস্থ্য আধিকারিক, আবার কোথাও নার্স। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, যে কেন্দ্রে যে ব্যক্তি বা আধিকারিক সরঞ্জাম দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, সরঞ্জাম খোয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী নিখোঁজ সরঞ্জামের মূল্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেতন থেকে কেটে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
Leave a Comment