---Advertisement---

জেরায় নেশা চক্রের গোপন নকশা ফাঁসের আভাস! হাসপাতালে পালানোর চেষ্টা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে!

By Suman Debnath

December 8, 2025 3:18 PM

---Advertisement---

ত্রিপুরা টিভি | খোয়াই, ৮ই ডিসেম্বর: খোয়াইয়ের নেশা নেটওয়ার্ক দমনে চলমান অভিযানের মধ্যেই গত শনিবার অর্থাৎ রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে খোয়াইয়ের দাগি নেশা কারবারী রাহুল মিয়াকে কেন্দ্র করে জোর চাঞ্চল্য। পুলিশের জেরায় রাহুলের মুখ খুলতেই নাকি সামনে আসছে খোয়াই জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নেশা সিন্ডিকেটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাম—এমনটাই দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের। তার গ্রেপ্তারের পর থেকেই এলাকার তথাকথিত ‘কিংপিনরা’ নড়েচড়ে বসেছে, যা স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছে প্রশাসনিক মহলেও।

গত শনিবার রিমান্ডের মাঝেই মেডিকেল পরীক্ষার জন্য রাহুলকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা। জনমহলে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন—হাসপাতাল চত্বরে নাকি পালানোর চেষ্টা করেছিল রাহুল। এমনকি সে নাকি আইনি পরামর্শদাতাদের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন করে। পরবর্তীতে আইনি উপদেষ্টাদেরই পরামর্শে পালানোর পরিকল্পনা বাতিল করে বলে জানা যায়। যদিও পুলিশ এই ঘটনাকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—রাহুল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এখনও উদ্ধার হয়নি। সূত্রের দাবি, মোবাইলটি গ্রেপ্তারের সময়ও তার কাছে ছিল। রহস্যজনকভাবে সেই ফোন অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় তদন্তে তৈরি হয়েছে বড়সড় ফাঁক। সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, এই ফোনেই ছিল রাহুলের বাংলাদেশের মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের অডিও-চ্যাট, চ্যাট হিস্ট্রি এবং লেনদেনের প্রমাণ। প্রশ্ন উঠছে—ফোনটি কোথায় গেল, কার হাতে গেল, এবং কেনই বা উদ্ধার হচ্ছে না?

আরও পড়ুন:  ৪৫ কোটি টাকার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার, গ্রেফতার ১

এদিকে রাহুলকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে খোয়াই জুড়ে। স্থানীয়দের দাবি, রাহুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার হলে নেশা চক্রের মূল খেলোয়াড়দের মুখোশ খুলে যাবে। জনমতের ক্ষোভ—মাদক চক্রের দোসর কিংবা অভিভাবকের ভূমিকায় কেউ থাকলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সীমান্তঘেঁষা এলাকায় পুলিশ ও বিএসএফের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হয় উত্তর দূর্গানগরের রাহুল মিয়া। বহুদিন ধরেই সে বাংলাদেশ সীমান্তকে ব্যবহার করে নেশা পাচারের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক সুবিধা এবং প্রশাসনিক নজরদারির ফাঁক ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এই চক্র। অভিযোগ রয়েছে, নেপথ্যে প্রভাবশালী দালালচক্র এবং বিএসএফকে মেনেজ করে চলাই এই ব্যবসার অন্যতম অস্ত্র।

খোয়াইয়ের বিভিন্ন অঞ্চল—জেলা হাসপাতাল চত্বর, বনকর এলাকা, সুভাষপার্ক বাজারের কোহিনুর কমপ্লেক্সের অংশবিশেষ, সরকারি দ্বাদশ শ্রেণির বিদ্যালয়ের মূল ফটক, বিভিন্ন গলিপথ এবং ভাড়া বাড়ির নির্জন ঘর—সবই মাদক সেবীদের আড্ডাখানা ও ব্যবসা পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন:  নেশাসক্ত যুবকের মৃত্যু ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নেতাজিনগরে!

যুব সমাজের মধ্যে নেশার বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়া অধিকাংশই তরুণ—যা আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর জন্য ভয়ংকর সংকেত।

রাহুল মিয়ার জেরায় উঠে আসা তথ্যই এখন পুলিশের প্রধান হাতিয়ার। স্থানীয়দের আশা—এই সূত্র ধরে পুলিশ যদি নেশা চক্রের গভীরে পৌঁছতে পারে, তবে বহুদিন ধরে ছায়ায় লুকিয়ে থাকা ‘কিংপিন’দের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

তবে প্রশ্ন একটাই—এই অন্ধকার সাম্রাজ্য ভাঙতে পুলিশ কতটা দৃঢ় হতে পারবে? রাহুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার হবে কবে? এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—খোয়াই কি নেশার গ্রাস থেকে সত্যিই মুক্তি পাবে? উত্তরের অপেক্ষায় আজ সমগ্র খোয়াই।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment