যশপাল সিং, ত্রিপুরা, ৩১ ডিসেম্বর, বুধবার: যিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, দায়িত্ব পেলে তিন মাসের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, সেই অনিমেষ দেববর্মা বনমন্ত্রী হিসেবে কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাতের আঁধারে পুলিশি অভিযান চালিয়ে আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে বিস্তৃত গাঁজা চাষ ধ্বংসের ছবি সামনে এসেছে। যদিও অভিযানটি হয়েছিল তড়িঘড়ি এবং নামকাওয়াস্তে। পুলিশের এই দায়সারাভাবে অভিযান নিয়েও জনমনে ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে অভিযোগ শুধু গাঁজায় সীমাবদ্ধ নয়; একই এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশি মদের অবৈধ কারখানাও। পাল্লা দিয়ে চলছে জান্ডিমুন্ডার মতো জুয়ার রমরমাও।
ত্রিপুরা রাজ্যের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার নিজ বিধানসভা কেন্দ্র আশারামবাড়ী এখন গাঁজা ও মাদকের সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে—এমন অভিযোগে সরব হয়েছে জনমত। বনদস্যুদের গোপন করিডোর হিসেবে আশারামবাড়ী এলাকার নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আশারামবাড়ী এলাকা এখন বনদস্যুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। প্রতিদিন গাছ কাটার যন্ত্রের শব্দে বন-জঙ্গল মুখরিত হয়ে ওঠে। নির্বিচারে বন ধ্বংস চললেও কার্যকর প্রতিরোধ চোখে পড়ছে না। বিস্ময়ের বিষয়, এই সবকিছুই ঘটছে বনমন্ত্রীর নিজ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই।
রাজ্যজুড়ে যখন গাঁজা ধ্বংস অভিযানের মরশুমে প্রতিদিন বিনা পারিশ্রমিকে এক লক্ষ, দুই লক্ষ এমনকি পাঁচ লক্ষ পর্যন্ত গাঁজা গাছ কাটা হচ্ছে বলে প্রশাসনের দাবি, তখন বনাঞ্চলের সুরক্ষা নিয়ে বনমন্ত্রীর ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। বন দপ্তরের কার্যকলাপ দেখে অনেকেই অভিযোগ তুলছেন—দপ্তরটি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে গাঁজা চাষে মদত দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বনমন্ত্রীর নীরবতাকেও পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন অনেকে।
বনমন্ত্রী ও বন দপ্তরের দীর্ঘ নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। জনগণের দাবি, এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বনমন্ত্রীর অবিলম্বে প্রকাশ্যে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত। যিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তর সামাল দেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেখাতে পারেন, তিনি বনমন্ত্রী হিসেবে নিজের দায়িত্ব কতটা পালন করতে পারছেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।
খোয়াই জেলার আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করেন। এই কেন্দ্র থেকে বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শুধু বিধায়ক নন, মন্ত্রীও হয়েছেন। তবুও স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া আজও আশারামবাড়ী এলাকার মানুষের কাছে অধরা রয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট, পাণীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিসেবা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। আজও আশারামবাড়ী প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকা হিসাবেই রাজ্যের মানচিত্রে রয়ে গেছে। ইতিহাস সাক্ষী, এই আশারামবাড়ী কেন্দ্র থেকে একের পর এক বিধায়ক মন্ত্রীত্ব সহ বহু উচ্চপদ পেয়ে থাকলেও, আশারামবাড়ীর মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়নি।