যশপাল সিং, ত্রিপুরা, ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার: বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার বনাঞ্চলে ড্রোন দিয়ে গাঁজা ক্ষেত খুঁজছে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু আজ অবধি বনমন্ত্রী চুপ কেন? প্রশ্ন জনগণের। প্রায় প্রতিদিন একের পর এক বিপুল পরিমাণ গাঁজা গাছ ধ্বংসের দাবি উঠলেও এ বিষয়ে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার দীর্ঘ নীরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
ত্রিপুরার বনাঞ্চলের সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর খোয়াইয়ের আশারামবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা দলের বিধায়ক অনিমেষ দেববর্মাকে বনমন্ত্রী করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের বিস্তীর্ণ বনভূমি গাঁজা চাষের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ। এই অবৈধ চাষের বিস্তারের ফলে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মত বিভিন্ন মহলের। অথচ এই পরিস্থিতিতে বনমন্ত্রী ও বন দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে—তাঁরা কি আদৌ সক্রিয়, নাকি নীরব দর্শকের ভূমিকায়? শুধু তাই নয়, গাছ কেটে বনাঞ্চল সাফ করে দিচ্ছে বনদস্যুরা, তারপরও বনমন্ত্রী চুপ।
এদিকে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সিপাহিজলা জেলার আনন্দপুর ঘাটিঘর এলাকায় বনভূমিতে এক বিশাল যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ১৫০টি গাঁজা চাষের প্লট শনাক্ত করা হয়, যেখানে আনুমানিক ১৫ লক্ষ অপরিণত গাঁজা গাছ ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়। এই গাঁজা চাষ প্রায় ১৮০ একর বনভূমি জুড়ে বিস্তৃত ছিল বলে জানানো হয়েছে। ধ্বংস হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।
এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয় সোনামুড়া, বিশ্রামগঞ্জ, মেলাঘর, বিশালগড় ও বিশালগড় মহিলা থানা, বিএসএফের ৪২, ৪৩, ৪৯, ৬৯ ও ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়ন, টিএসআরের ৯ম ও ১৪তম ব্যাটালিয়ন এবং ১৪তম মহিলা ব্যাটালিয়ন, সোনামুড়া মহকুমা বন দপ্তরসহ বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সেপাহিজলা জেলার পুলিশ সুপার ও বিএসএফের ৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট।
এই বিপুল অভিযানের পরও বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার নীরবতা কেন—তা জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ। বনাঞ্চলে গাঁজা চাষের এই লাগামহীন বিস্তারের দায় কার, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা।
পুলিশ ও বিএসএফের তরফে প্রায় প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ গাঁজা গাছ ধ্বংসের দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ে বন দপ্তরের কর্মী বা আধিকারিকদের উপস্থিতি খুব একটা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধছে—বন দপ্তরের অজ্ঞাতসারে নাকি তাদের মেনেজ করেই রাজ্যে গাঁজা চাষের এমন বিস্তার সম্ভব হয়েছে? চলতি বছরে একের পর এক গাঁজা ক্ষেত ধ্বংস হলেও বন দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না আসায় প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে। আজ পর্যন্ত এই বিষয়ে বনমন্ত্রীর প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য না থাকাও জনমনে বিস্ময় তৈরি করেছে।