জোলাইবাড়ী (দক্ষিণ ত্রিপুরা) প্রতিনিধি : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত জোলাইবাড়ী বিধানসভার সাহাপাথর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি—এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। বাম আমল থেকে শুরু করে পরবর্তী শাসনকালেও এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কার্যত অধরাই থেকে গেছে বলে মত সাধারণ মানুষের।
২০২৩ সালে রাজ্যে বিজেপি জোট সরকারের প্রত্যাবর্তনের পর জোলাইবাড়ী বিধানসভার বিধায়ক শুক্লা চরন নোয়াতিয়া মন্ত্রী হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, মন্ত্রীর নিজস্ব বিধানসভা হওয়ায় এবার অন্তত রাস্তা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র যেন সেই আশাকে আজ নিরাশায় পরিণত করেছে।
সাহাপাথর এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি এমন যে, কোথাও কোথাও দেখে মনে হয় যেন এখানে মানুষের বসবাসই নেই। রেললাইন সংলগ্ন এই অঞ্চলটি বিগত কয়েক বছর আগে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ভয়াবহ বন্যার সময় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষত আজও পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ। কাঁচা ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে এলাকাবাসীর নিত্যদিনের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে এলাকার শিশুদের স্কুলে আসা-যাওয়া এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাহাপাথর এলাকায় অবস্থিত রাজকুমার রজোয়া পাড়া স্কুলে পড়ুয়াদের যেতে হয় কাদামাটি ও জল জমা রাস্তা পেরিয়ে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। পানীয় জল, ড্রেনেজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থাও শোচনীয়।
এখন প্রশ্ন উঠছে—
মন্ত্রী শুক্লা চরন নোয়াতিয়া কি সাহাপাথর এলাকার এই দীর্ঘদিনের সমস্যার দিকে নজর দেবেন?
মন্ত্রী হওয়ার পর কি এই অবহেলিত অঞ্চলের জন্য বিশেষ কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে? নাকি জোলাইবাড়ীর এই অংশটি উন্নয়নের মানচিত্রেই থেকে যাবে উপেক্ষিত?
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে এসে বাস্তব উন্নয়ন। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রী হিসেবে শুক্লা চরন নোয়াতিয়া আদৌ কতটা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সাহাপাথরের মানুষের জীবনমান বদলাতে।