আগরতলা প্রতিনিধি: দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কালো পোশাক ও কালো কাপড় পরিধান করে এই প্রতিবাদে অংশ নেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বিরোধীদের উপর পুলিশি বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আগরতলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ, গোপাল চন্দ্র রায়, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা পীযূষ কান্তি বিশ্বাসসহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
মিছিলটি রাজ্য পুলিশের সদর কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয় বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল পশ্চিম জেলার জেলা শাসকের কার্যালয়ে যায় এবং জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করে।
এদিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতৃত্বে দেশজুড়ে আন্দোলন চলছে। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে পুলিশি বাধা ও প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর বন্ধ করার চেষ্টা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সুদীপ রায় বর্মণ আরও দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে কংগ্রেস আন্দোলনে নেমেছে। এই কর্মসূচি দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরার বিভিন্ন জেলাতেও সংগঠিত হচ্ছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশি ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে এবং সেই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক।
এদিনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগরতলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মিছিল এগিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে জেলা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি।
Leave a Comment