,

২০৪৭ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার থাকবে, দাবি অভিষেক দেবরায়ের

By Suman Debnath

October 31, 2026 4:25 PM

২০৪৭ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার থাকবে, দাবি অভিষেক দেবরায়ের

আগরতলা, ৩১ অক্টোবর ২০২৬: ২০৪৭ সাল পর্যন্ত ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে বলে দাবি করলেন ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। শনিবার আগরতলায় বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ পদযাত্রায় অংশ নিয়ে বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিএমকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক দেবরায় বলেন, কংগ্রেস ও সিপিএম সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছে। ক্ষমতায় ফেরার জন্য তাদের প্রচেষ্টা সফল হবে না। ত্রিপুরায় সিপিএমের ২৫ বছরের শাসন এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, উভয় দলই মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

বিরোধী দলগুলির যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে আদর্শগত সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দলের রাজনৈতিক স্লোগান ও অবস্থানের মধ্যে অসংগতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে।

প্রাক্তন বাম সরকারের আমলে রাজ্যে মহিলাদের উপর হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেক দেবরায়ের দাবি, নারীসম্মান এবং মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধাকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে বিজেপি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পেরেছে। তিনি বলেন, “আজ সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার মা-বোনের বিপুল সমর্থন আমরা দেখতে পাচ্ছি।”

আরও পড়ুন:  দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে নিজ গাড়িতে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন ধনপুরের বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ!

দলের সাংগঠনিক ঐক্যের উপর জোর দিয়ে অভিষেক দেবরায় বলেন, বিজেপিতে পদমর্যাদা নিয়ে অহংকার কিংবা কর্তৃত্ব ফলানোর সংস্কৃতির কোনও জায়গা নেই। তাঁর কথায়, “আমরা সবাই ভারতীয় জনতা পার্টির সৈনিক। আমরা কর্মী, নেতা নই। মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং সেবার মাধ্যমে তাঁদের সমর্থন অর্জন করতে হবে।” দলীয় কর্মীদের জনস্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিরও সমালোচনা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, অতীতেও ১২ বার এই ধরনের সংশোধন হয়েছে, যার মধ্যে ১০ বার কংগ্রেস ও সিপিএমের শাসনকালে। বিরোধীদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মৃত ভোটার এবং অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয় কি?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনার প্রসঙ্গেও সরব হন অভিষেক দেবরায়। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও সিপিএমের হাতে মানুষের সামনে তুলে ধরার মতো কোনও বাস্তব রাজনৈতিক ইস্যু নেই। তাই তারা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন:  ‘মোদি-শাহ বাঁচাতে পারবেন না জ্ঞানেশকে’, হুংকার রাহুলের, ফের আটক

বিরোধী নেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও বিক্ষোভের মাধ্যমে পুলিশকর্মী এবং সরকারি আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধীদের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই চাপ ও ভয় দেখানোর উপর নির্ভরশীল।

শনিবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণকে বিজেপির প্রতি জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন অভিষেক দেবরায়। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের যুবসমাজ, মহিলারা, বুদ্ধিজীবী এবং সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে এগিয়ে এসেছেন।

বক্তব্যের শেষ পর্বে বিজেপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও নিবিড় করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে মানিক সরকার, জিতেন্দ্র চৌধুরী, সুদীপ রায় বর্মন ও আশিস কুমার সাহার মতো বিরোধী নেতাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যকে যেন কেউ ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করেন। অহংকার থেকে নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে জানান অভিষেক দেবরায়।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment