বদরপুরের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতায় নাগরিক অভিবর্তন, গঠিত হল প্রতিরোধ কমিটি

By Suman Debnath

July 19, 2026 8:40 PM

বদরপুরের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতায় নাগরিক অভিবর্তন, গঠিত হল প্রতিরোধ কমিটি


বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুলাই : শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী বদরপুরের ইতিহাস ও স্বকীয়তা রক্ষার দাবিতে এবং সম্ভাব্য নাম পরিবর্তনের উদ্যোগের প্রতিবাদে রবিবার বদরপুরে এক নাগরিক অভিবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। খান সুইটস সংলগ্ন ভবনে আয়োজিত এই সভায় এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক, সমাজকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও জাগীরোড পেপার মিলের প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুর রহমান। উদ্বোধনী পর্বে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ‘একই বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু মুসলমান’ গানটি সমবেতভাবে পরিবেশন করেন জয়দীপ দাস, লক্ষী দাস ও রাধা কোঁহার। আহ্বায়কদের পক্ষে মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও সমাজসেবী হিফজুর রহমান।

প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী অরুণাংশু ভট্টাচার্য, প্রবীণ আইনজীবী জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, অ্যাডভোকেট সুব্রত কুমার পাল, আবুল কালাম তাপাদার, বদরুল হক চৌধুরী, রূপক রক্ষিত, মওলানা আতাউর রহমান, তরুণ গুহ, প্রজ্জ্বল দেব-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

আরও পড়ুন:  দক্ষিণ জেলার শান্তির বাজার আর ডি ব্লক বিলোনিয়া এগ্রিকালচার অফিসে মিনি পাওয়ার টিলা ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জনমতের তোয়াক্কা না করে বদরপুরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বদরপুর পুরসভার এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন নামে একটি পুরসভা গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গোটা বদরপুরের নাম পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করতে পারে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, বদরপুর শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়; এটি শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা আন্দোলন, মাতৃভাষা আন্দোলন এবং রেল নগরী হিসেবে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ধারক। তাঁদের মতে, এই নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইতিহাসচর্চা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বদরপুর বিধানসভা কেন্দ্র বিলুপ্ত করা এবং শহরাঞ্চলকে কাছাড় জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার পর এবার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা এলাকার মানুষের নাগরিক অধিকার ও আত্মপরিচয়ের ওপর আঘাত বলে তাঁরা মনে করেন।

আরও পড়ুন:  টাকারজলায় সংঘর্ষ, বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলা, আহত এসপি সহ একাধিক পুলিশ!

সভায় উপস্থিত বক্তাদের দাবি, বদরপুরের নাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের কোনও বাস্তব উপকার হবে না; বরং সরকারি নথিপত্র পরিবর্তনসহ নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে। তাঁরা করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তনের বিরোধিতায় পূর্বে অনুষ্ঠিত আন্দোলনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ঐতিহ্যমণ্ডিত বদরপুরের নাম পরিবর্তন প্রতিরোধ নাগরিক কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানানো হয়, পরবর্তীতে কমিটি সম্প্রসারিত করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হাইলাকান্দির সমাজকর্মী ও ‘সাহিত্য’ পত্রিকার সম্পাদক শিখা ভট্টাচার্য লিখিত বার্তায় সভার প্রতি সমর্থন জানান। সভা পরিচালনা করেন আহ্বায়কদের অন্যতম কয়সর আহমেদ।

অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ফজলুর রহমান, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফয়েজ উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, সমাজকর্মী আজির উদ্দিন এবং প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য এনাম উদ্দিন প্রমুখ।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment