২০১৯ সালে গুরুতর লিগামেন্ট চোট, ২০২২ সালে কমনওয়েলথ দল থেকে বাদ। সব বাধা পেরিয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ৬৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতে অনুপ্রেরণার গল্প লিখলেন রাজা মুথুপান্ডি।
চার বছর আগে কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে জায়গা পাননি। তারও আগে গুরুতর চোটে কার্যত থমকে গিয়েছিল কেরিয়ার। সেই রাজা মুথুপান্ডি (Raja Muthupandi) এবার গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে রুপোর পদক জিতে লিখলেন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প। পুরুষদের ৬৫ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে মোট ২৮৬ কেজি ওজন তুলে দেশের ঝুলিতে আরও একটি পদক যোগ করলেন তিনি।
প্রতিযোগিতার শুরুটা অবশ্য মোটেই সহজ ছিল না। স্ন্যাচে প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মুথুপান্ডি। পরে ১২৬ কেজি সফলভাবে তুলে প্রতিযোগিতায় ফিরে এলেও ততক্ষণে মালয়েশিয়ার আজনিল বিন বিদিন মুহাম্মদ (Aznil Bin Bidin Muhammad) ১৩৩ কেজি তুলে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
ক্লিন অ্যান্ড জার্কেও প্রথমে ১৫৮ কেজি তুলতে ব্যর্থ হন ভারতীয় ভারোত্তোলক। এরপর ঝুঁকি নিয়ে সরাসরি ১৬০ কেজি তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সফলও হন। সেই মুহূর্তে গেমস রেকর্ডও তাঁর দখলে আসে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৬৬ কেজি তুলে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন বিদিন।
শেষ প্রচেষ্টায় ১৭০ কেজি তোলার চ্যালেঞ্জ নেন মুথুপান্ডি। সেই লিফট সফল হলে সোনার সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তবু মোট ২৮৬ কেজি তুলে নিশ্চিত করেন রুপোর পদক।
মুথুপান্ডির এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই। ২০১৯ সালের কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্ন্যাচের সময় তাঁর ডান কনুইয়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতার বাইরে থাকতে হয়। চোট কাটিয়ে ফিরলেও ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি। সেই হতাশাকে শক্তিতে বদলে ২০২৪ সালে জাতীয় রেকর্ড গড়েন। এরপর ২০২৫ সালের কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ের পাশাপাশি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও নিজের সেরা পারফরম্যান্স করেন। আর এবার গ্লাসগোয় এসে সেই ধারাবাহিকতারই বড় পুরস্কার পেলেন।
রুপোর পদক জিতেও সন্তুষ্ট নন ভারতীয় ভারোত্তোলক। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে তিনি জানান, সোনা হাতছাড়া হওয়ায় তাঁর আক্ষেপ রয়েছে। কোচ বিজয় শর্মা (Vijay Sharma) তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন এবং সোনা জয়ের আশা করেছিলেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় তিনি হতাশ। তবে এই রুপোর পদক তিনি বাবা-মা এবং কোচকে উৎসর্গ করেছেন। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্যে আরও কঠোর অনুশীলনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
এই ইভেন্টে ২৯৯ কেজি ওজন তুলে গেমস রেকর্ড গড়ে টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসের সোনা জিতলেন মালয়েশিয়ার আজনিল বিন বিদিন মুহাম্মদ। ব্রোঞ্জের পদক যায় পাপুয়া নিউ গিনির মোরিয়া বারুর (Moria Baru) ঝুলিতে।
মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)-র সোনা এবং ঋষিকান্ত সিংয়ের রুপোর পর রাজা মুথুপান্ডির রুপো ভারতের পদক তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ করল। ভারোত্তোলন ও প্যারা পাওয়ারলিফটিং মিলিয়ে ভারতের মোট পদক এখন চার—একটি সোনা, দুটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। সোমবার ভারতের আশা থাকবে বিন্দিয়ারানি দেবী (Bindyarani Devi), ভল্লুরি অজয় বাবু (Valluri Ajay Babu) এবং জ্ঞানেশ্বরী যাদব (Gyaneshwari Yadav)-এর উপর, যাঁরা নিজ নিজ বিভাগে পদকের লড়াইয়ে নামবেন।
Leave a Comment