---Advertisement---

ডার্বির মঞ্চে নতুন লড়াই জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামব: প্যানজিওটিস

By Suman Debnath

July 25, 2026 11:15 AM

ডার্বির মঞ্চে নতুন লড়াই জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামব: প্যানজিওটিস

---Advertisement---


যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের অন্দরে তখন শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। কোথাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মহড়া, কোথাও বাজছে ড্রামের তালে দেশাত্মবোধক গান। শনিবার ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের পর্দা উঠবে সেই যুবভারতীতেই। আর উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। মরসুমের প্রথম ডার্বি, দেশের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচ—দু’য়ের আবেগ একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় উত্তাপ যে অন্য মাত্রা পেয়েছে, তা শুক্রবার দুই শিবিরের সাংবাদিক সম্মেলনেই স্পষ্ট।

এক দিকে ইস্টবেঙ্গলের ডাগআউটে আন্তোনিও লোপেস হাবাস। কলকাতা ডার্বিতে তাঁর সাফল্যের ইতিহাস রয়েছে, যদিও তার পুরোটাই সবুজ-মেরুন জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে। এ বার তিনি ইস্টবেঙ্গলের কোচ। তাই, অতীত পরিসংখ্যান নিয়ে একেবারেই মাথা ঘামাতে রাজি নন স্প্যানিশ কোচ। বরং, বর্তমানে ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দেওয়াই স্প্যানিশ কোচের একমাত্র  লক্ষ্য।

ডার্বির আগে দলের প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদী হাবাস। তবে বাস্তবও মানছেন। হাতে সময় কম। কয়েকটি অনুশীলনে একটি দলের খেলার চরিত্র বদলে দেওয়া যায় না, তা জানেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তা সত্ত্বেও অজুহাতের আশ্রয় নিতে রাজি নন তিনি। বরং তাঁর লক্ষ্য, প্রথমে দলকে সংগঠিত ও মানসিকভাবে দৃঢ় করে তোলা। হাবাসের মতে, “শুধু কৌশল দিয়ে নয়, খেলার মাঠে মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে হাবাস জানিয়ে দিলেন, একটি দলের নিজস্ব ফুটবল দর্শন তৈরি করতে সময় লাগে।”

আরও পড়ুন:  দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে হার, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতাই ডোবাল ভারতকে, হারের পর স্বীকারোক্তি অধিনায়ক শুভমনের

এদিকে, কলকাতায় ফিরে আসার আবেগও গোপন করেননি তিনি। এই শহরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাবাস বলেন, কলকাতায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে গর্বের। তবে এখন সেই আবেগ সরিয়ে রেখে ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যে পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চান তিনি।

তবে ডার্বির আগে লাল-হলুদ কোচের চিন্তাও বাড়িয়েছে দলের চোট-আঘাত সমস্যা। চোটের জন্য দানিশ ফারুখ এবং বরিস সিংকে পাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল। দু’জনেরই মাঠে ফিরতে অন্তত আরও দু’সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি দানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদের খেলা নিয়েও ধোঁয়াশা রেখেছেন তিনি। ফলে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের সম্পূর্ণ ভারতীয় একাদশ খেলতে দেখলেও অবাক হওয়ার বিশেষ কিছু থাকবে না। যদিও দুই বিদেশিকেই ডুরান্ড কাপের জন্য নথিভুক্ত করেছে ক্লাব।

অন্য দিকে মোহনবাগানের ডাগআউটে নতুন মুখ প্যানজিওটিস দিলেম্পেরিস। এটাই তাঁর প্রথম কলকাতা ডার্বি। কিন্তু বড় ম্যাচের চাপকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজি নন গ্রিক কোচ। তাঁর বক্তব্য, ‘আমার কাছে প্রতিটি ম্যাচই ডার্বি। প্রতিটি অনুশীলনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ তবে ডার্বির মতো ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করাকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।

আরও পড়ুন:  বিশ্বকাপ ফাইনাল কি পিছোচ্ছে? নিউ ইয়র্কে বায়ুদূষণ ঘিরে উদ্বেগ, কী জানাল FIFA?

দিলেম্পেরিসও মেনে নিয়েছেন, হাতে সময় খুব কম। সব ফুটবলার এখনও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট নন। অল্প সময়ে নিজের ফুটবল দর্শন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও, বল দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলেম্পেরিসের স্পষ্ট জবাব, প্রত্যাশা একমাত্র জয়।

ভারতীয় ফুটবলারদের উপরও পূর্ণ আস্থা রয়েছে মোহনবাগান কোচের। তাঁর দাবি, দেশের অন্যতম সেরা ভারতীয় ফুটবলাররা রয়েছেন সবুজ-মেরুন শিবিরে। বিদেশিরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে ভারতীয়রাই বড় ভূমিকা নেবেন বলেই বিশ্বাস তাঁর। মোহনবাগানের নতুন বিদেশি স্ট্রাইকার দেজান ড্রাজিচও প্রথম ডার্বি খেলতে মুখিয়ে। সমর্থকদের উদ্দেশে মাঠে এসে দলকে সমর্থন করার বার্তা দিলেন তিনি।

সবমিলিয়ে, নতুন কোচের অধীনে সীমিত প্রস্তুতি নিয়েও বাজিমাত করতে মরিয়া দুই দল। নানান প্রতিকূলতা থাকলেও ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসী ফুটবলাররা। এক দিকে হাবাসের বাস্তববাদ, অন্য দিকে দিলেম্পেরিসের আত্মবিশ্বাস, শনিবারের যুবভারতীতে ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন নতুন এক ফুটবল দ্বৈরথের সাক্ষী হতে চলেছেন ফুটবলপ্রেমীরা, তা বলাই বাহুল্য।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment