ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026) শেষ হতেই শুরু হয়েছে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ নিয়ে আলোচনা। স্পেন (Spain) দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গোটা প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্স বিচার করে তৈরি হয়েছে সম্ভাব্য ‘টিম অফ দ্য টুর্নামেন্ট’। সেখানে জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi), কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe), জুড বেলিংহাম (Jude Bellingham)-দের মতো তারকারা। তবে তালিকায় নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo), লামিন ইয়ামল (Lamine Yamal) কিংবা নেইমার (Neymar Jr.)।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে এই একাদশে। রক্ষণ থেকে মাঝমাঠ— একাধিক ফুটবলার জায়গা করে নিয়েছেন তাঁদের দুরন্ত পারফরম্যান্সের জোরে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আর্জেন্টিনারও একাধিক তারকা রয়েছেন এই দলে।
গোলরক্ষক
উনাই সিমন (Unai Simon)
স্পেনের বিশ্বজয়ের অন্যতম স্থপতি। টুর্নামেন্টে সর্বাধিক সেভ করার পাশাপাশি জিতেছেন গোল্ডেন গ্লাভস। তাঁর আক্রমণাত্মক গোলকিপিং ও বল বিতরণের দক্ষতা স্পেনের রক্ষণকে আরও কার্যকর করেছে।
রক্ষণভাগ
পেদ্রো পোরো (Pedro Porro)
স্পেনের রাইট-ব্যাক হিসেবে রক্ষণ ও আক্রমণ— দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৩৭টি সফল ডিফেন্সিভ অ্যাকশনের পাশাপাশি করেছেন দুটি গোল।
পাউ কুবার্সি (Pau Cubarsi)
প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙা, ক্লিয়ারেন্স ও বল দখলে ছিলেন অনন্য। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য জিতেছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
মার্ক গুইহি (Marc Guehi)
ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনের নেপথ্যে অন্যতম নায়ক। পুরো প্রতিযোগিতায় তাঁর স্থিরতা ও নিখুঁত ডিফেন্ডিং বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
মার্ক কুকুরেয়া (Marc Cucurella)
লেফট-ব্যাক হয়েও একাধিক অ্যাসিস্ট করেছেন। প্রতিপক্ষের ড্রিবলারদের বিরুদ্ধে অসাধারণ রক্ষণ গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
মাঝমাঠ
রড্রি (Rodri)
স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা। টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার হিসেবে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রক্ষণে সহায়তা— সর্বত্রই ছিলেন অনবদ্য।
ডেক্লান রাইস (Declan Rice)
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। আক্রমণ গড়ে তোলা এবং বল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
জুড বেলিংহাম (Jude Bellingham)
ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রধান ভরসা। এক বিশ্বকাপে কোনও ইংলিশ ফুটবলারের সর্বোচ্চ ৭ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
আক্রমণভাগ
মাইকেল ওলিসে (Michael Olise)
ওপেন প্লে থেকে ৬টি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন। ফ্রান্সের আক্রমণে ছিলেন অন্যতম সৃজনশীল ফুটবলার।
কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের নামে করেছেন।
লিওনেল মেসি (Lionel Messi)
বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। সর্বাধিক ‘কি-পাস’, সবচেয়ে বেশি বড় সুযোগ তৈরি এবং সফল ড্রিবলিংয়ে শীর্ষ সারির পারফরম্যান্স তাঁকে সেরা একাদশে জায়গা এনে দিয়েছে।
এই একাদশে সবচেয়ে বড় চমক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লামিন ইয়ামল এবং নেইমারের অনুপস্থিতি। ব্যক্তিগত খ্যাতি নয়, পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই নির্বাচনে। ফলে ফুটবল বিশ্বের একাধিক তারকা বাদ পড়লেও স্পেনের আধিপত্য, ইংল্যান্ডের স্থিতিশীলতা এবং মেসি-এমবাপের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্ভাব্য সেরা একাদশে।
Leave a Comment