ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের অন্যতম বড় নাম পিভি সিন্ধু অবশেষে ফিরলেন চ্যাম্পিয়নের মঞ্চে। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাপান ওপেনে ইতিহাস গড়লেন তিনি। রবিবার ফাইনালে আয়োজক দেশের আকানে ইয়ামাগুচিকে হারিয়ে শুধু শিরোপাই জেতেননি, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজিরও গড়েছেন অলিম্পিকের জোড়া পদকজয়ী এই শাটলার।
গত কয়েক বছর ধরে চোট, ফর্মহীনতা এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে সিন্ধুকে। ২০২৪ সালে সৈয়দ মোদি ইন্টারন্যাশনাল জেতার পর আর কোনও বড় খেতাব তাঁর ঝুলিতে আসেনি। ওপেন টুর্নামেন্টের শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ ছিল। প্রায় সাত বছর পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তিনি।
২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের পর গোড়ালির গুরুতর চোট সিন্ধুর কেরিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, আগের ছন্দে আর ফেরা সম্ভব হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলেছেন ভারতের এই তারকা শাটলার। চলতি মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্সে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট ছিল, আর জাপান ওপেনে এসে মিলল তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা শাটলার আকানে ইয়ামাগুচি। গত চার বছরে তাঁকে একবারও হারাতে পারেননি সিন্ধু। তার উপর ঘরের কোর্টে দর্শকদের সমর্থনও ছিল জাপানি তারকার পক্ষেই। তবু ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছন্দে খেলেন ভারতীয় তারকা।
প্রথম গেমে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিলেন সিন্ধু। মাঝেমধ্যে ইয়ামাগুচি লড়াইয়ে ফিরলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের স্নায়ু নিয়ন্ত্রণে রেখে ২১-১৭ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন তিনি।
দ্বিতীয় গেমেও একই ছবি দেখা যায়। সিন্ধু শুরুতেই বড় ব্যবধান তৈরি করেন। ইয়ামাগুচি ১৪-১৭ পর্যন্ত লড়াইয়ে ফিরলেও শেষ মুহূর্তে একাধিক ভুল করেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২১-১৭ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেমও জিতে নেন সিন্ধু এবং সরাসরি গেমে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন।
শেষ পয়েন্ট জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন সিন্ধু। চোখে জল নিয়ে কোর্টেই উদযাপন করেন বহু প্রতীক্ষিত এই সাফল্য। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, এই ট্রফি তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ। দীর্ঘদিনের কঠিন সময় কাটিয়ে আবারও বড় মঞ্চে সাফল্য পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। এবার এই ছন্দ ধরে রেখে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চান ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের তারকা।
জাপান ওপেনের এই ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু সিন্ধুর ব্যক্তিগত কেরিয়ারেই নতুন অধ্যায় যোগ করল না, ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসেও যুক্ত হল এক নতুন মাইলফলক।
Leave a Comment