---Advertisement---

মস্তিষ্কের ৫ জটিল রোগের সতর্ক সংকেত

By Suman Debnath

July 27, 2026 1:25 PM

মস্তিষ্কের ৫ জটিল রোগের সতর্ক সংকেত

---Advertisement---



মস্তিষ্কের রোগের মধ্যে একসময় ব্রেন স্ট্রোককেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে স্ট্রোকের পাশাপাশি মেনিনজাইটিস, ব্রেন টিউমার, ব্রেন ক্যানসার, পারকিনসন ও মৃগীর মতো বিভিন্ন স্নায়ুরোগও বাড়ছে। এসব রোগ শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে ৪০ বছরের পর এসব রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। তাই মস্তিষ্কের রোগের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ব্রেন স্ট্রোক

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা কোনো রক্তনালি ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হলে তাকে ব্রেন স্ট্রোক বলা হয়। রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, যা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ স্ট্রোকের অন্যতম ঝুঁকির কারণ। এছাড়া হৃদ্‌রোগ, বিশেষ করে আর্টেরিয়াল ফাইব্রিলেশনের মতো সমস্যার কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেও স্ট্রোক হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অচল হয়ে পড়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

আরও পড়ুন:  জামাই ষষ্ঠীর পূজার নিয়ম: কীভাবে করবেন ষষ্ঠী দেবীর পুজো? জেনে নিন সম্পূর্ণ বিধি

ব্রেন ক্যানসার

সব ব্রেন টিউমার ক্যানসার নয়, আবার ব্রেন ক্যানসার মানেই চিকিৎসার বাইরে চলে যাওয়া নয়। সময়মতো রোগ শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

গ্লায়োমা নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের ব্রেন টিউমারই ব্রেন ক্যানসার হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মস্তিষ্কের যেকোনো অংশে হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে মাথাব্যথা, খিঁচুনি কিংবা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে নিউরোসার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মস্তিষ্ককে ঘিরে থাকা সুরক্ষামূলক স্বচ্ছ আবরণকে মেনিনজেস বলা হয়। এটি মস্তিষ্ককে আঘাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহেও ভূমিকা রাখে। এই আবরণে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে তাকে মেনিনজাইটিস বলা হয়।

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক কিংবা পরজীবীর সংক্রমণে এ রোগ হতে পারে। সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছালে প্রথমেই স্নায়ুকোষ আক্রান্ত হয় এবং দ্রুত কোষের ক্ষতি শুরু হয়।

এর ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব, মাইগ্রেনের মতো মাথাব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর স্নায়বিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

পারকিনসন রোগ

একসময় পারকিনসনকে শুধু বৃদ্ধ বয়সের রোগ মনে করা হলেও এখন তুলনামূলক কম বয়সেও এ রোগ দেখা যাচ্ছে। এর নির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে।

আরও পড়ুন:  নিকোটিন কীভাবে বদলায় সম্পর্ক | Amar Bangla BANGLADESH

গবেষকদের মতে, পরিবেশদূষণ, খাদ্যে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি এবং বংশগত কারণ পারকিনসনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এ রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের নিউরন বা স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। ফলে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং রোগী শরীরের নড়াচড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেন।

মৃগী রোগ

মৃগী একটি স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি জিনগত কারণে হয়ে থাকে। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতের পরও অনেকের মৃগী রোগ দেখা দিতে পারে। নবজাতক থেকে বয়স্ক—সব বয়সেই বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে।

মস্তিষ্কের গঠনগত বা স্নায়বিক কোনো ত্রুটি থাকলেও মৃগীর ঝুঁকি বাড়ে। মস্তিষ্কে থাকা অসংখ্য সূক্ষ্ম স্নায়বিক সার্কিট শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে। এসব সার্কিটে অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত বা ‘স্পার্কিং’ তৈরি হলেই খিঁচুনিসহ মৃগী রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।

মৃগী রোগের ধরন ও উপসর্গ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারো ঘন ঘন খিঁচুনি হয়, আবার কারো ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম দেখা যায়। রোগের অবস্থা মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকেরা সাধারণত এমআরআই এবং ইইজি পরীক্ষার পরামর্শ দেন। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হয়।

আমার বাঙলা/ রাব্বি

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment