নজরবন্দি ব্যুরো: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু (Pema Khandu)-কে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এ সিবিআই (CBI) অভিযোগ করেছে, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথি দিতে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না। এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রধান সচিবের কাছে জবাব তলব করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশ্যে আসা আদালতের নির্দেশে জানা গিয়েছে, বিচারপতি বিক্রম নাথ (Justice Vikram Nath) এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতা (Justice Sandeep Mehta)-র বেঞ্চ সিবিআইয়ের স্টেটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখে এই পদক্ষেপ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তদন্তে প্রয়োজনীয় সরকারি নথি সংগ্রহের ক্ষেত্রে রাজ্য প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
এই মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। তখন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে সরকারি জনপথ নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি বণ্টনে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এবং তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে কোনও পক্ষপাতমূলক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিবিআই।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে সর্বশেষ স্টেটাস রিপোর্টে সিবিআই দাবি করেছে, তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাইলেও রাজ্য সরকার তা যথাসময়ে দিচ্ছে না। ফলে তদন্তের গতি ব্যাহত হচ্ছে।
সিবিআইয়ের এই অভিযোগের পর আদালত মুখ্যসচিব এবং প্রধান সচিব (স্বরাষ্ট্র)-কে নোটিস জারি করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী শুনানির দিন তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে ব্যাখ্যা দেবেন কেন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়নি।
এপ্রিলের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি নির্মাণ প্রকল্পের টেন্ডার, ওয়ার্ক অর্ডার এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত নথি তদন্তের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে আদালত এ-ও বলেছিল, প্রয়োজন হলে এই সময়সীমার বাইরের লেনদেনও সিবিআই তদন্ত করতে পারবে।
শুধু তাই নয়, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারকে একটি নোডাল অফিসার নিয়োগের নির্দেশও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সমস্ত সরকারি নথি সংরক্ষণ করতে হবে এবং কোনও নথি নষ্ট করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
এখন নজর আগামী ২৪ আগস্টের শুনানির দিকে। রাজ্যের শীর্ষ আমলারা আদালতে কী ব্যাখ্যা দেন এবং সিবিআইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী কী নির্দেশ দেয়, সেটাই এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে।
Leave a Comment