দিল্লির যন্তর-মন্তর (Jantar Mantar)-এ ছাত্র আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ ছিল, শুধু লাঠিচার্জ নয়, তাঁদের লক্ষ্য করে পেলেট গুলি (Pellet Gun)-ও চালানো হয়েছে। সেই অভিযোগে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে সফদরজং হাসপাতাল (Safdarjung Hospital)-এর চিকিৎসা নথি। হাসপাতালের পর্যবেক্ষণ সামনে আসতেই দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)-এর আগের দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন আহত একাধিক পড়ুয়াকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ২৮ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর ডান কনুই ও পিঠে পেলেটের আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ক্ষতের চারপাশের চামড়া কালচে হয়ে গিয়েছে এবং আঘাতের স্থানে ছররার টুকরো আটকে রয়েছে। হাসপাতালের এই নথি প্রকাশ্যে আসার পর আন্দোলনকারীদের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাহিল লোচাব নামে এক কিশোর বিক্ষোভকারীর ডান চোখে পেলেট বিদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের মতে, তার ডান চোখের কর্নিয়ায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। মুখ, গলা, বুক, ডান কাঁধ ও হাতে একাধিক ছররার আঘাতের পাশাপাশি একটি পেলেট তার ডান ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডের চারপাশের টিস্যুতেও পাওয়া গেছে। তার ইতোমধ্যে একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও একটি অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরেক আহত বিক্ষোভকারী শেখ মনসুরির মুখমণ্ডলের বিভিন্ন স্থানে সাতটি ছররার আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাকে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে পুলিশের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর পেলেট গান ব্যবহারের খবর “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর”। পুলিশের বক্তব্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং গুলি বা পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (Central Reserve Police Force – CRPF) জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (Rapid Action Force – RAF)-এর বিরুদ্ধে ওঠা পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের জেরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বেড়েছে। তার মধ্যেই হাসপাতালের চিকিৎসা নথি এবং পুলিশের বক্তব্যের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান ঘটনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। এখন তদন্তের ফলাফল এবং সরকারি ব্যাখ্যার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের।
Leave a Comment