তুরস্ক থেকে মাদক পাচারে অভিযুক্ত নভপ্রীতকে ভারতে ফেরানো হল ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, মন্তব্য শাহের

By Suman Debnath

October 3, 2026 5:00 PM

তুরস্ক থেকে মাদক পাচারে অভিযুক্ত নভপ্রীতকে ভারতে ফেরানো হল ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, মন্তব্য শাহের


ভুয়ো পরিচয় দিয়ে তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আফগানিস্তান হয়ে ভারতে হেরোইন ও মেথামফেটামিন পাচার করার অভিযোগ  নভপ্রীত সিংয়ের বিরুদ্ধে। তাঁকে শনিবার তুরস্ক থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, ‘নবাব ভির্ক’ নামে ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন নভপ্রীত। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর প্রকৃত পরিচয় খুঁজে বের করার পর তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে।

শনিবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে শাহ জানান, তুরস্কে বসেই আফগানিস্তান থেকে ভারতে মাদক পাচারের কারবার চালাচ্ছিলেন নভপ্রীত। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকারও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর ভুয়ো পরিচয়ের আড়ালে থাকা প্রকৃত পরিচয় খুঁজে বের করে। এরপরেই তাঁকে তুরস্ক থেকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশে ফেরানোর পরে তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নভপ্রীতকে দেশে ফেরানোর ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক মাইলস্টোন’ বলে উল্লেখ করেছেন শাহ। সেই সঙ্গে সমস্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। শাহের দাবি, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সমস্ত মাদক পাচার চক্র ধ্বংস করতে কেন্দ্রীয় সরকার বদ্ধপরিকর। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ভারত, আফগানিস্তান ও তুরস্ককে কেন্দ্র করে চলা একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নভপ্রীত। তুরস্কে বসেই ওই চক্রে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:  বিহারে নৌকাডুবি, বৈশালীতে মৃত্যু ১৩ শিশুর, উদ্ধার ৭

২০২১ সালে দক্ষিণ দিল্লি থেকে রিজওয়ান কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তারের পর এই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। দেশের একাধিক রাজ্য জুড়ে তদন্ত চলে। এই তদন্তেই ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধারের কথা সামনে আসে। একটি গাড়ি থেকে ১৬৬ কেজি এবং অন্য একটি গাড়ি থেকে ১১৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। নভপ্রীতের খুড়তুতো ভাই প্রভদীপ সিংও এই মামলায় তদন্তকারীদের নজরে আসেন। ভারতেও এই চক্রটি মাদক সরবরাহে অত্যন্ত সক্রিয় ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।

চলতি বছরের মে মাসে আজারবাইজান থেকে প্রভদীপকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। ২০২৩ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও জারি হয়েছিল। সিবিআই, দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল, বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একত্রিত উদ্যোগে তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। এর আগে এপ্রিল মাসে তুরস্ক থেকেই দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং মাদক পাচারে অভিযুক্ত মহম্মদ সেলিম ডোলাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:  নেপাল থেকে পাটনা, অযোধ্যা হয়ে ফিরছেন মহারাষ্ট্রের পর্যটকেরা

আরও পড়ুন: ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ৫, আহত ১০

একের পর এক অভিযুক্তকে বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর ঘটনাকে মাদক পাচার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কেন্দ্র। ভারত ও তুরস্কের মধ্যে ২০০১ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০০২ সালের জুনে তা কার্যকর হয়। ওই চুক্তির আওতায় সন্ত্রাসবাদ-সহ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত পলাতকদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে ফেরানোর আইনি পরিকাঠামো রয়েছে।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment